লন্ডনে বসেই বেতন নিচ্ছেন বিশ্বনাথের স্কুল শিক্ষিকা সাবিয়া!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৬:২৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৮৮০ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু ::সিলেটের বিশ্বনাথে ভাটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতাসহ এরিয়া বিল উত্তোলন করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা আজো নেয়া হয়নি। ওই শিক্ষিকা স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।সূত্র জানায়, ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে চাকুরীতে যোগদান করে কিছুদিন পরই লন্ডনে চলে যান আজোও তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থেকে লাপাত্তা রয়েছেন।
জানা যায়, বিশ্বনাথের ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতাসহ এরিয়া বিল উত্তোলন করেছেন। এ ব্যাপারে গত বছরের ১২ মে থেকে অদ্যবধি কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিতির জন্য ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অভিযোগ প্রদান করেছেন। এই অভিযোগ পত্র পেয়ে উপজেলা অফিসার শিক্ষিকার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করার জন্য ফোন ও লোক মাধ্যমে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ জুন থেকে ওই শিক্ষিকাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক কারণ দর্শানো নোটিঁশ প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরও শিক্ষিকা পক্ষে নোটিশের কোনো জবাব আজো পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষিকা তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে উভয়ে যুক্তরাজ্যে (লন্ডনে) প্রবাস জীবন যাপন করছেন। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাথিমক শিক্ষা সুষ্ট বাস্তবায়নের পথে বিঘœ বাধা সৃষ্টি হওয়ায় এহেন আচরনের কারণে সহকারী শিক্ষিকা সাবিয়া বেগমের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার চিন্তাহরন দাস। এছাড়া তিনি অফিস কর্তৃক অবগতির জন্য আবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরন করেছেন। উল্লেখ্য, ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিয়া বেগমের জন্ম-৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৬ ইং তারিখ পর্যন্ত ১৭বছর ১মাস ১৬দিনের সময়ের ভিতর স্কুলে তার চাকুরী হয়। এই বয়সে তার কিভাবে চাকুরী হয় এই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী প্রথমে স্কুলে চাকুরীতে যোগদেন। স্কুলে যোগদেয়ার কিছুদিন পরই ছুটির আবেদন করে। ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল দরখাস্থ জমা দিয়ে লন্ডনে চলে যান। সেখান থেকে ছুটি কাটিয়ে ১বছর ৮মাস ১৮দিন পর আবারো তিনি স্কুলে যোগদান করেন। স্কুলে যোগদানের পর জেলা-উপজেলা হিসাব রক্ষনসহ সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে করে বেতন ভাতাসহ এরিয়া বিল উত্তোলন করেন। এ সময় কয়েকদিন স্কুলে হাজির দেখিয়ে হঠাৎ করে ২০১৫ সালের ৫ মে থেকে তিনি লাপাত্তা রয়েছেন। আজো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে আইনানুগ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলা শিক্ষা অফিসার দূর্নীতিবাজ জনৈক কেরানী শহিদ এর সঙ্গে গোপন আতাত করে সহকারী শিক্ষিকা সাবিয়া বেগম লন্ডনে যায়। এখানে তার পক্ষে সবকিছু ম্যানেজ করতে কেরানী শহিদ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনাটি বিশ্বনাথ উপজেলায় চাউর হলেও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তা রহস্যজনক কারনে এ ব্যাপারে একেবারে নিরব রয়েছেন। ঘটনাটির ব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান অবগত রয়েছেন ।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিসার (চিন্তাহরণ দাশকে) কয়েকবার জানানো হয়েছে। এরপরও কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছেনা।
ভাটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আশিকুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, শিক্ষিকার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছে। লিখিত দিলে তিনি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানান।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার চিন্তা হরণ দাশ বলেন, শিক্ষিকার (সাবিয়া বেগম) বিষয়টি উর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।


