বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক, ‘সড়ক নয়, যেন নরক যন্ত্রণা’
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ২:০৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২১১ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড়বড় গর্তের ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে করে আসছেন। ফলে মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারনকে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক নিয়ে মহা-সমস্যায় থাকার পরও কর্তৃপক্ষ দিনের পর দিন রাস্তার এমন করুন দশা দেখেও না দেখার বান করে বসে আছেন। তবে এত খারাপ রাস্তা হওয়ার পরও থেমে নেই এখনকার বাস, অটোরিকশা,টেম্পু, রিসকা, লাইটেস, কার,জীপসহ সকল গাড়ীর চালকদের জীবনের চাকা। তারা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিতে বের হচ্ছেন গাড়ী নিয়ে। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে গাড়ী রাস্তা দিয়ে চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে গাড়ী গুলোর যন্ত্রপাতি। এছাড়া এসড়ক দিয়ে রোগী নিয়ে চলাচল করতে জনসাধারনকে পোহাতে হচ্ছে নানান দূর্ভোগ। করতে হচ্ছে অনেক হিসেব-নিকাশ। ওই সড়ক দিয়ে বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজের শতশত শিক্ষার্থী যাতায়াত করতে হয়। এতে কলেজ ছুটের সময় শিক্ষার্থীদের পুহাতে দুর্ভোগ। প্রতিদিন ওই সড়কে গাড়ি দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
যাত্রীরা বলেন, ‘এটি সড়ক নয়, যেন নরক যন্ত্রণা’। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বেশ কয়েক জায়গায় একেবারে উঠে গেছে। সড়কটির জীর্ণ দশার কারণে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সারাক্ষণ সড়কসহ আশপাশের এলাকা ধুলোয় আচ্ছন্ন থাকে। ফলে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির সীমা নেই। গতকাল বুধবার বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের গর্তের মধ্যে পানি জমাট বেঁধে রয়েছে। গর্তের গভীরতা আন্দাজ করতে না পেরে খুব ধীরে ধীরে গাড়ি চালাতে হয়। তাতে সময় বেশি লাগে। আবার ছোটখাট দুর্ঘটনাও লেগে থাকে। অন্যদিকে গাড়ির চাকা জমা জলের গর্তে পড়তেই জল ছিটকে গিয়ে লাগে পথচারীদের গায়ে। অথচ এই সড়ক দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন স্কুল-কলেজের শতশত শিক্ষার্থী, রোগী, সরকারী কর্মকর্তা, যাত্রীসাধারণসহ অসংখ্য মানুষ।
যাত্রীরা জানান, এক সময় এ উপজেলার মানুষ মাত্র ২৫-৩০ মিনিটে সিলেট যেতে পারতেন। কিন্তু এখন রাস্তার বেহাল দশার দরুণ ১ ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয়। রাস্তার কয়েক জায়গায় পিচ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে রাস্তাটি পরিণত হয় ধুলোর রাজ্যে আর বৃষ্টি হলে হাঁস ফাঁস দশা। ধুলো আটকানোর জন্য দোকানের সামনে প্রতিদিস সকাল-বিকেল পানি দিয়ে রাখেন অনেকে। কিন্তু তার উপরেও ধুলোর পুরো আস্তরণ চোখে পড়বে।
অটোরিকশা চালক নুরুল ইসলাম বলেন, পেটের কারণে ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়কে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছি।
শিক্ষার্থী আবদুল মানিক বলেন, সড়কের গর্তগুলো দেখলে মনে হয় একেকটি পুকুর। আর সেই গর্তগুলোতে জমে থাকা পানি দেখলে যে কেউই তাতে মাছ শিকার করতে যাইবে।
বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত সড়কটির সংস্কার করা না হলে জনদূর্ভোগ আরও বাড়বে।


