বিশ্বনাথে তীব্র শীতে জন- জীবনে চরম দূর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৭০৭ বার পঠিত
অসিত রঞ্জন দেব:: সারা দেশের ন্যায় হাড় কনকনে তীব্র শীত রাতের ঘন কুয়াশায় সিলেটের বিশ্বনাথের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। হিমেল হাওয়া স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা শীতে কাহিল। হতদরিদ্র মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল মানুষেরা জবুথবু হয়ে কোনো মতো শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শত চেষ্টা করছেন। গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই রাত জেগে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিভারনের চেষ্টা করছেন। শ্রমজীবি মানুষেরা কাজে বের হতে না পারায় তাদের পরিবার নিয়ে অভূক্ত থাকছেন।
মাঘের এই হাড় কাপানো শীতে মাঝে মধ্যে তীব্র ঘন কুয়াশার কারণে বিকেল থেকে পরদিন ১০-১১টা পর্যন্ত লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেছেন না। ফলে ইরি ও বোরো ফসলের ভরা মৌসুমে কৃষকেরা ক্ষেতে কাজ করতে পারছেননা। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধ লোকজনের সদি, কার্শি, হাঁপানি, হাড় ও বাতের ব্যাথার বেড়ে যাওয়াসহ নানা রোগও উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে।
গত তিন দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক, ছাদর, সোয়েটারসহ গরম কাপড়ের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা কাপড়ের দোকানে মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেলেও দাম বেশী হওয়ায় নিম্ম আয়ের মানুষজন তা কিনতে পারছেননা। উপজেলা সদরে অস্থায়ী পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বেড়ে গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন ইতিমধ্যে এলাকার হত-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীতের কম্বল বিতরণ করেছেন। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে কুয়াশার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার ও আশংকা রয়েছে। আলু, শরিষা, সবজি, ইরি, বোরো ধানের চারাসহ শীত কালীন সবজি সূর্যের পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ায় ফসলের নিজস্ব উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। যার কারণে ফসল কমে যাওয়ার আশংকা থাকে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। আর বায়ু মন্ডলের আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাকক্টেরিয়ার আক্রমণের ফলে অনেক রোগ দেখা দেয়। কিছু পোকা রাতে আক্রমণ করে। পোকা মাকড় এসব কুয়াশাছন্ন দিনকে রাত মনে করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। আর এ অবস্থায় সারও দেয়া যায়না। কারণ এতে পাতা বেজা থাকায় মাটিতে ইউরিয়া সার দেওয়া অনেকটা বিপদজনক হয়ে যায়।
স্থানীয় চিকিৎসক এম এ কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, শীতকালে নবজাতক ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া ও টনসিলের প্রভাব বেড়ে যায়। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও থাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এছাড়া ডায়রিয়া, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ শীতকালীন নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে গরম কাপড় পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও সমান সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।


