ওসমানীনগরে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই!
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১:২২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭৭০ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: মায়ের ভাষা মাতৃভাষা বাংলাকে সম্মানের আসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতা রক্ত দিয়েছেন। শুধু তাই নয়,অকাতরে জীবন দিয়েছেন আমাদের বীর সন্তানরা। তাদের স্বরণে সিলেটের ওসমানীনগরে অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে নেই শহীদ মিনার। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পরও স্থাপন করা হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। অনেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও অযতœ, অবহেলায় পড়ে আছে। যেন শহীদ মিনার কদর কর্তৃপক্ষের কাছে তেম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের শহীদরা মরণজয়ী আন্দোলন সংগ্রাম করে মায়ের ভাষা মাতৃভাষা বাংলার জন্য জীবন উৎসর্গ করলো, তাদের স্বরণে ওসমানীনগরে কোনো প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।
ফলে উপজেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ২১ শে ফেব্রুয়ারী মর্যাদা বুঝে উঠতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিনটি তারা অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতো খেলাধুলা ও গৃহস্থলীর কাজ কর্ম করে সময় কটায়। প্রবাসী অধ্যুষিত ওসমানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংখ্যা ৮৭ ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১২টি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৫ টি। এসব প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকটিতে শহীদ মিনার হয়েছে ব্যক্তি উদ্যোগে। মাতৃভাষা দিবস পালনও শুরু হয়েছে অল্প দিন থেকে। এর আগে তা পালনে অনেকের অনিহা ছিল। যারা একটু সচেতন তারা একুশে ফেব্রুয়ারী পালন করে চেয়ার অথবা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে। সূর্য ডোবার পূর্বেই অস্থায়ী শহীদ মিনারে অস্থিত্ব আর খুজে পাওয়া যায়না। থানার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থদের সঙ্গে আলাপ করে জানাগেছে, তাদের পাঠ্য বইয়ে পড়েছিল ভাষার জন্য সালাম, রফিক,বরকত,জব্বার নাম না জানাসহ অনেক বীর পাকিস্তানী পুলিশের নির্মম গুলিতে শহীদ হয়েছেন। বাস্তবে এ দিনটি পালন করে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বা বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা সম্ভব হচ্ছেনা।
অপরদিকে, এ উপজেলায় ৭৫ভাগ শিক্ষার্থীই ভাষা আন্দোলন সর্ম্পকে তাদের তেমন ধারনা নেই। তারা জানেনা শহীদ মিনার কি?, শহীদ মিনার কেন নির্মান করা হয়। যেসব বীর সন্তানরা দেশের জন্য তাদের বুকের তাজা রক্ত দিল,জেল জুলুম,অত্যাচার,নির্যাতন শত আঘাত প্রতিঘাত নিরবে সহ্যকরে জাতিকে একটি ভাষা উপহার দিল। নি:সন্দেহে তারা দেশের কৃতিবীর সন্তান। সরকারি উদ্যোগে আরও শহীদ মিনার নির্মাণ করতে কেন এক গড়িমশি প্রশ্ন বিবেকবান মানুষের। জাতীয় দিবসটি পালন করলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ দিবস পালন করতে পারেনি বলে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, এলাকায় নতুন এসেছি। কতটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, তা এই মুহুর্তে জানা নেই।
তিনি বলেন, যারা দায়িত্বের সঙ্গে শহীদ দিবস পালন করেনা, তাদের ব্যাপারে এবার খুজ নিয়ে নেব। যারা একুশে ফেব্রুয়ারী পালন করেনা,তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা হেডকোয়ার্টার হলে সেখানে আমরা একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করব।


