ওসমানীনগরে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১০:১৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭২৭ বার পঠিত

স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, ষাইটদা গ্রামের প্রবাসী আব্দুর নুর এ পর্যন্ত ৪/৫টি বিয়ে করেছেন। কিছুদিন পর পর তালাক দিয়ে পুনরায় আবারও নতুন বিয়ে করে গ্রামে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তিনি প্রতিবাদকারী ব্যাক্তিদের মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলাসহ নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন।
প্রবাসী আব্দুর নুর প্রথমে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ের গদিয়ারচর গ্রামে বিয়ে করেন পরবর্তীতে ঐ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে প্রবাসে আরেকটি বিবাহ করেন। কিছুদিন পর প্রবাসী স্ত্রীর সাথে আব্দুর নুরের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর দেশে এসে তিনি তাঁর বাড়ির কাজের মেয়ে আলকুমার (২৫) সাথে অসামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন । বিষয়টি গ্রামবাসী মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে এক পর্যায়ে গ্রামবাসীর চাপের মুখে পরে আলকুমাকে বিয়ে করেন আব্দুর নুর। পরবর্তীতে আলকুমাকে দিয়ে প্রতিবাদকারী ব্যাক্তিদের উপর মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করান। মামলাটি আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়।
এদিকে গ্রামবাসীর উপর দায়ের করা আলকুমা বেগমের মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হওয়ার কিছু দিন পরই আব্দুর নুর দেশে এসে আলকুমাকে মারপিট করে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে রোমানা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। আব্দুর নুর প্রবাসে যাওয়ার পর রোমানা বেগম গ্রামে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করেন । সম্প্রতি গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে অসামাজিক কার্যকলাপের পোস্টার ও অসামাজিকতার রেকর্ড বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে ষাইটদাসহ আশপাশ এলাকার গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি প্রচার হতে শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী লোকজন আব্দুর নুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো গ্রামের লোকজনকে মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এমন অসামাজিক কর্মকান্ডে গোটা গ্রামের পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কিন্তু প্রভাবশালী আব্দুর নুরের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। অবশেষে গত সোমবার বিভিন্ন জায়গায় লাগানো অসামাজিক কার্যকলাপের পোস্টার ও ইন্টারনেটে প্রচার হওয়া রেকর্ডের মেমর্রী কার্ড সংযুক্ত করে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্ধতন পক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গ্রামবাসী লোকজন।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন গ্রামবাসী স্মারকলিপি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।