নবীগঞ্জে বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে পেটালেন মেম্বার!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৮৩৪ বার পঠিত

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ০৯ ওয়ার্ড সাতাইহাল গ্রামের স্থানীয় মেম্বার জমশেদ আলী একই গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মো. আবু বক্কর (৬০)কে রোববার রাতে সন্দেহজনক ভাবে গরু চুরির অপরাধে ডেকে নিয়ে যান তার বাড়িতে। মিথ্যা অভিযোগে মেম্বারের বাড়িতে আটক করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন আহত আবু বক্কর। মেম্বারের নির্যাতনের শিকার আবু বক্কর জানান, তাকে সারা রাত আটক রাখার পর পরের দিন সোমবার দুপুরে স্থানীয় সাতাইহাল পাঁচ মৌজার খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশপাশ গ্রামের অনন্ত দুইশতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটুনী ও অমানুষিক নির্যাতন করেন মেম্বার জমশেদ আলী ও তার লোকজন ।
এ ব্যাপারে মেম্বার জমসেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভরগাঁও গ্রামের তবারকের সঙ্গে গরু চুরিতে সহযোগিতা ও চুরির গরুর মাংস বিক্রি করার কারণে এলাকার লোকজন আবু বক্করের প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। তাই জনগণকে সামাল দিতে গিয়ে আমি প্রকাশ্য মারপিঠ করেছি।
নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি গরীব অসহায় আবু বক্কর আরো জনান, আমি গরু চুরি করিনি। তার প্রমাণও পায়নি এলাকার লোকজন। আমি তবারকের কাছ থেকে ১ কেজি মাংস কিনেছিলাম এটাই আমার অপরাধ। আমি এলাকাতে যদি চুরি করে থাকি তবে আমার উপর যে শাস্তি প্রদান করা হবে আমি মাথা পেতে নেব।
এ ঘটনায় নির্যাতিত আবু বক্করের পরিবারের লোকজন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এদিকে, মারপিটের দৃশ্যটি অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে দেয়। উক্ত ভিডিও ক্লিপকে ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুকে মারপিটের ভিডিও পোস্টে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। এ নিয়ে উপজেলার নানান স্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। এক জন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা কি হওয়া উচিত এ নিয়েও যেন প্রশ্নের শেষ নেই। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবু বক্করের পরিবার।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খান জানান, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। কেহ কোন অভিযোগও করেনি। আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ বিষয়টি অবহিতও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।