ভাবির পরকীয়ার বলি ননদ তাহমিনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ২:২২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৭২ বার পঠিত
নিউজ ডেস্ক:: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ভাবির পরকীয়ার বলি হয়েছে সাত বছরের শিশু তাহমিনা। সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়া তাহমিনার লাশ রাতে সেফটি ট্যাংকি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশু তাহমিনার ভাবি রুবিনা বেগম (২২) ও তার অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গী তিন যুবককে আটক করা হয়েছে।
তাহমিনা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর আশিঘর এলাকার মতই মিয়ার কন্যা। সে আশিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাস ছয়েক আগে আশিঘর গ্রামের মতই মিয়ার ছেলে রুহেল মিয়া একই গ্রামের রওশন মিয়ার কন্যা রুবিনাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন।
সম্প্রতি রুবিনার বাবা রওশন আলী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এলে রুবিনা সেখানে বেড়াতে যায়। গত সোমবার সকালে তাহমিনা প্রতিদিনের মতো স্কুলে চলে যাওয়ার পর তাহমিনার মা জমিলা বেগম বিশেষ কাজে ঘর তালা দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যান।
কাজ শেষে দুপুর বেলা জমিলা বেগম বাড়ি ফিরে দেখেন বারান্দায় তাহমিনার পাঠ্যবই ও পায়ের সেন্ডেল পড়ে রয়েছে, তাহমিনা নেই। পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। নিখোঁজ তাহমিনার খোঁজ পেতে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।
তাহমিনার সহপাঠী ফাতেমাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায়, স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাহমিনা বলেছে সে ভাবি রুবিনার বাড়িতে যাবে। ফাতেমার কাছ থেকে এই তথ্য পেয়ে তাহমিনার পরিবারের লোকজন রুবিনাকে তাহমিনার কথা জিজ্ঞেস করেন। এতে রুবিনা উত্তেজিত হয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন।
তাহমিনা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানালে সোমবার রাতে রুবিনাদের ঘরের পেছনে রিং ল্যাট্রিনের ওপরের কিছু অংশ ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পায়।
পুলিশ সেফটি ট্যাংকির মধ্যে একটি বস্তার মধ্যে তাহমিনার লাশ দেখতে পায়। উদ্ধারকৃত লাশের মুখ মণ্ডল ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরে তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রুবিনা বেগমকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের শরিফ, সুলেমান ও আজমানকে থানায় আটক করে নেয় পুলিশ।
তাহমিনার ভাই রুহেল মিয়া বলেন, ‘কুকীর্তি দেখে ফেলায় আমার বোনকে অপকর্মের সহযোগীদের নিয়ে হত্যা করেছে রুবিনা।’
তিনি বলেন, শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পর থেকে একই গ্রামের শরিফ উদ্দিন ও আরিফ উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে রুবিনা অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মীর নাসের বলেন, লাশের আলামত দেখে বুঝা যাচ্ছে তাহমিনাকে হত্যা করা হয়েছে। তাহমিনার ভাবি রুবিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


