ওসমানীনগরে সরকারী ভূমির বন্দোবস্থ নিয়ে জটিলতা : এলাকায় উত্তেজনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১০:২৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯৮৮ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: ওসমানীগরের উমরপুর গ্রামে সরকারী ভূমি বন্দোবস্থ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে জটিলতা বিরাজ করছে। ভূমির সীমানা নির্ধারন করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একাধিক বার ঘটনাস্থলে যাওয়া হলেও একটি পক্ষের বাঁধার কারনে সীমানা নির্ধারনে ব্যার্থ হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত রবিবার ৭ ফেব্রুয়ারী ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশে সার্ভেয়ার কমল কান্তি দে, সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হাছনুল আলম,থানা পুলিশসহ সরেজমিনে গিয়ে জায়গার সীমানা নির্ধারন করতে চাইলে ছইল মিয়া ও দিলদার মিয়ারে পক্ষের লোকজন বাঁধা প্রদান করেন । এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাধাঁ প্রদান করার কারন জানতে ছইল মিয়া লোকজন জানান হাই কোর্টে তাদের এ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তবে চলমান মামলার কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ছইল মিয়া গংদের গত রবিবার বিকালে হাই কোর্টের মামলার কাগজ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। গত দুইদিন ধরে ছইল মিয়া গংরা হাইকোটের কাগজ পত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও আসেন নাই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমরপুর গ্রামের মৃত আশিক মিয়ার বন্দোবস্তকৃত জে এল নং ১১ স্থিত উমরপুর মৌজায় ১৭০ নং খতিয়ানের ৬৬৫ নং দাগের ২২ একর, ৬৫৯ নং দাগে ১০ একর, ৫৮১নং খতিয়ানে ১২৪৬ নং দাগে ১৪ একর, ১২২০ নং দাগে ১৩ একর, ১২৩৬ নং দাগে ২৩ একর শ্রেনী আউস হিসেবে মনমোহন চক্রবর্তী গংদের নামে ছাপা রেকর্ড হয়। সেই সময় উক্ত সম্পত্তি ভিপি হিসেবে তালিকা ভুক্ত হওয়ার পর বিধিনুযায়ী ২৭২/৬৬/৬৭ নং ভিপি মোতাবেক জায়গাগুলো স্থায়ী বন্দোবস্থ আনেন করেন মো: আশিক মিয়া। আইননুযায়ী লিজ গ্রহীতা হিসাবে তিনি ১৪২২ বাংলা পর্যন্ত জায়গাগুলোর খাজনাও পরিশোধ করেন। এদিকে উক্ত জায়গাগুলো নিজেদের দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি প্রর্ত্যাপন অতিরিক্ত আপিল ট্রাইবুনাল -৩ এবং ৩য় অতিরিক্ত জেলা জজ সিলেট এর আদালত ৪০০/ ১২ নং প্রত্যার্পন মামলা দায়ের করেন একই এলাকার তাহির মিয়ার পুত্র দিলদার মিয়া, ছইল মিয়া, ছুনু মিয়া, জুনু মিয়া গংরা। আদালত দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে উক্ত মামলাটি খারিজ করেন। পরবর্তীতে দিলদার মিয়া গংরা আদালতের উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল মোকাদ্দমা ৬/১৪ নং দায়ের করিলে আদালত বিচারআন্তে উক্ত আপিল মামলাটি খারিজ করে দেয়। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর সিলেট জেলা প্রশাসকের বরাবরে আশিক মিয়ার পুত্র সেলিম আহমদ তাদের নামে বন্দোবস্তকৃত জায়গার সীমানা নির্ধারনের জন্য আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সীমানা নির্ধারনের জন্য ঘটনাস্থলে গেলেও দিলদার মিয়া গংদের নানামুখি বাধার কারনে সীমানা নির্ধারনে ব্যার্থ হয় প্রশাসন। । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১২৪৬ ও ৬৫৫ নং দাগের ভুমি বর্তমানে ডোবা থাকা অবস্তায় উক্ত অর্পিত মামলার বাদী দিলদার মিয়া গংরা গাছের ঢাল পালা ও বাঁশ পুতিয়া রাখিয়াছেন, সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস কর্তৃক দিলদার মিয়া ও ছইল মিয়াকে ৬৫৫ ও ১২৪৬ নং দাগের ডোবা রকম ভূমি যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও উনারা জায়গাগুলো দখলের জন্য নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন করে যাচ্ছেন।
সেলিম আহমদ বলেন,আমার বাবা জীবত থাকা অবস্থায় কোন জায়গাগুলি সরকার থেকে বন্ধোবস্ত এনে যথাযথভাবে ভোগদখল করিয়া নিয়মনুযায়ী খাজনাও পরিশোধ করিয়া আসিতেছি। কিন্তু উক্ত জায়গা বেআইনে ভাবে দখলের জন্য প্রতিপক্ষ দিলদার মিয়া গংরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দিলদার মিয়া গংরা এব্যাপারে মামলা দায়ের করলেও আদালত বিচারের মাধ্যমে মামলটি খারিজ করার পরও তাদের নানামুখি বাঁধার কারনে উপজেলা প্রশাসন আমাদের লিজকৃত জায়গার সীমানা নির্ধারনে ব্যর্থ হচ্ছে।
তবে দিলদার মিয়া জানান, হাই কোর্টে আমার এ সংক্রান্ত মামলা চলেছে। মামলা চলামান থাকা অবস্থা কোন জায়গার সীমানা নির্ধারন কারা যায় না। তবে তিনি মামলা সংক্রান্ত হাইকোটের কোন কাগজ দেখাতে রাজি নন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শওকত আলী বলেন,জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে উমরপুর গ্রামের বন্ধোবস্তকৃত জায়গাগুলো সীমানা নির্ধারনের জন্য রবিবার সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা গিয়েছিলেন। একটি পক্ষ এ ব্যাপারে হাইকোটে মামলা রয়েছে জানালে সীমানা নির্ধারন না করে মামলা সংক্রন্ত কাগজ পত্র নিয়ে উপজেলা অফিসে আসার কথা বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলে এসেছেন। কাগজপত্র নিয়ে আসলে যাচাই-বাছাইপূর্বক এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


