শিক্ষিকার প্রহারে হাসপাতালে ছটফট করছে স্কুল ছাত্রী ফাহিমা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ মার্চ ২০১৬ ইং, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯২৩ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর নুর মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ফাহিমাকে অমানবিক প্রহারে ঘটনায় শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামীর ক্লাসসহ সব শ্রেণির ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করেছে। ফাহিমাকে নির্যাতনকারী শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করে অভিযুক্ত শিক্ষাকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনক ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় নূর মিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক অভিভাবক ও জনপ্রতিনধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামীকে কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত চিঠি প্রদান করা হলেও ঐ শিক্ষিকা সভায় উপস্থিত হননি।
সভায় দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা আলাপ আলোচনার পর আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামীকে উপস্থিত রেখে বিষয়টি আপোষে মিমাংশার জন্য তাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ৯মার্চ বুধবার দ্বিতীয় ঘন্টায় সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসে শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামী ফাহিমা বেগমের কাছে বই চাইলে সে স্কুল ব্যাগ থেকে বইটি বের করার সময় ব্যাগে থাকা বড়ই মাটিতে পড়ে যায়। বড়ইগুলো উঠাতে গেলে শিক্ষিকা ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহিমার চুল ধরে উপর্যুপরি চর থাপ্পর মেরে টেবিলের সাথে মাথায় আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাকে নীলডাউন করে পিঠে চড়ে বসলে ফাহিমার খিচুনি উঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। আহতবস্থায় প্রথমে বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পর বিদ্যালয়ের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শিক্ষিকাকে থানায় নিয়ে আসে এবং রাতে ছেড়ে দেয়। ফাহিমার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১১মার্চ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৬নং ওয়ার্ডের ৩নং বেডে ভর্তি থাকা ফাহিমা আজও মাথার তীব্র যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। তার কপালের একাধিক স্থানে হাড় ফেটে গেছে এমনটি সিটিস্ক্যানে ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফাহিমার ভাই মতছির আলী। তিনি আরো জানান ফাহিমাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দিতে শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামী বিভিন্ন ভাবে পায়তারা করছেন। এমনকি সিটিস্ক্যানে রিপোর্টটি গায়েব করার চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় দিনেও ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে বাইরে অবস্থান করছে। সাংবাদিকদের কাছে ফাহিমার সহপাঠী খাদিজা, আনিছা, সাফিয়া ও নবম শ্রেণির শানু আক্তার,মাসুমা, তান্নি, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিমু, পিনাকী, ৮ম শ্রেণীর সুমিনা, তাহমিনা, দশম শ্রেণীর নুরুননাহার, লাকী, ঝুমাসহ অনেকে শিক্ষিকা কৃষ্ণা গোস্বামী কর্তৃক ফাহিমা প্রহারের বিষয়টি বর্ণনা করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবির জানায় তারা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের সভা থেকে শিক্ষিাকা কৃষ্ণা গোস্বামীকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে উপস্থিত করে বিষয়টি আপোষ মিমাংশার জন্য চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টির সুরাহা করার জন্য সভা আহবান করে এলাকার মানুষের পরামর্শ চেয়েছি।
সিলেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


