ওসমানীনগরে শিক্ষার্থী হত্যার খুনিদের গ্রেফতারে আল্টিমেটাম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ মার্চ ২০১৬ ইং, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৩৭ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: সিলেটের ওসমানীনগরে এসএসসি পরীক্ষার্থী চাঞ্চল্যকর কয়েছ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত খুনিদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছে কয়েছের শিক্ষা প্রতিষ্টান বুরুঙ্গ ইকবাল আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। শনিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট খায়রুল ইসলাম মধুর সভাপতিত্বে প্রভাষক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বুরুঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মখদ্দুছ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন মাসুক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম, ছইদুর রহমান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, নিহত কয়েছের সহপাঠী এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা নুসরাত, অর্ঘ্য, মিজান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জামান আহমদ চৌধুরী প্রমূখ। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে না পারলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী পালনের হুসিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা। সমাবেশ শেষে বুরুঙ্গা বাজারে বিক্ষোভ মিছিলও বের করা হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এদিকে কয়েছ হত্যার ঘটনায় ৮দিন পেড়িয়ে গেলেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় কয়েছের পরিবার ও তাদের স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সভায় উপস্থিত নিহত কয়েছের ভগ্নিপতি প্রবাসী তৈমুছ আলী বলেন, ঘটনার ৮দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। এতে আমাদের হতাশা বাড়ছে। পিতৃহীন কয়েছকে আমিই দেখা শুনা করে মানুষ করেছিলাম। কিন্তু খুনিরা তাকে বাঁচতে দিলনা।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে বুরুঙ্গা ইউপির পিয়ারাপুর গ্রামের মৃত লালা মিয়ার ছেলে ও ইকবাল আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী কয়েছকে সহপাঠী একই গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান ওরফে মতি ও তার বড় ভাই ছোটন মিলে উপর্যূপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এঘটনায় কয়েছের মা তৈরুননেছা বাদি হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখসহ ১৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, আসামীরা পলাতক রয়েছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।