বিশ্বনাথে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন গরম কাপড়ের দোকানে ভিড়
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জানুয়ারি ২০২৪ ইং, ৪:০৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২১৭ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সার দেশের ন্যায় কনকনে তীব্র শীত রাতের ঘন কুয়াশায় সিলেটের বিশ্বনাথের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। হিমেল হাওয়া স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা শীতে কাহিল। হত-দরিদ্র মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। হাঁড় কাপানো শীতের কারণে সন্ধ্যার পর লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেছেন না। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধ লোকজনের সর্দি, কার্শি, হাঁপানি, হাড় ও বাতের ব্যাথার বেড়ে যাওয়াসহ নানা রোগও উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে। গত তিন দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক, ছাদর, সোয়েটারসহ গরম কাপড়ের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। শীত থেকে বাঁচতে সবাই ছুটছেন গরম কাপড়ের দোকানে। বিত্তবানরা ছুটছেন উপজেলা শহরের বড় বিপণি বিতানগুলোয়। আর খেটে খাওয়া লোকজন ছুটছেন ফুটপাতের দোকানগুলোয়। উপজেলা শহরের পুরান বাজার ও নতুন বাজার ও ফুটপাতে বসা গরম কাপড়ের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত-পা মোজা, টুপি ব্যবসায়ীদের দেখা গেছে।
গরম কাপড় কিনতে আসা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে খুব ঠান্ডা পড়ছে। ছেলে-মেয়ের জন্য দুইটা জ্যাকেট কিনলাম। দোকানদার জ্যাকেটের দাম চেয়েছিলেন ১৮০০ টাকা। দামাদামি করে দেড় হাজার টাকায় কিনেছি।
বাসিয়া সেতুর সামনের ফুটপাতে ছেলের জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছেন ভ্যানচালক আবুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর ঠান্ডা পড়ছে। ছেলের জ্যাকেট কেনার জন্য এসেছি। আমাদের তো আয় কম। তারওপর শীতের জন্য লোকজন বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও ভালো কাপড় কেনার সামর্থ নেই। তাই ফুটপাতে কিনতে এসেছি। এখান থেকে ছেলের জন্য ২৫০ টাকায় একটা জ্যাকেট কিনেছি। আর নিজের জন্য একটি সোয়েটার কিনলাম।’
ফুটপাতে পোশাক বিক্রেতা জামাল আহমদ বলেন, ‘আমাদের দোকানের ক্রেতারা সব খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। তাদের কথা মাথায় রেখে খানিকটা কম দামের পোশাক আমরা নিয়ে আসি এবং তা বিক্রি করি। গত তিন-চারদিন ধরে প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা পড়ায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সবাই সাধ্যমতো পছন্দের জিনিস কিনছেন।’
উপজেলা সদরের পুরান বাজারের পোশাক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বিশ্বনাথে শীতের প্রকোপ বাড়ায় শীতের পোশাক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বাচ্চাদের টুপি, সোয়েটার, জ্যাকেট। আর বড়দের সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর।’


