নির্বাচন আইলে আমরার কদর বাড়ে,?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ইং, ৭:৩০ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৩১৪ বার পঠিত
জামাল মিয়া,বিশ্বনাথ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা। বিরামহীনভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। সরাসরি ভোট না চাইলেও ‘দোয়া’ আর ‘ভালোবাসা’ চাইছেন প্রত্যেক প্রার্থীই। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নিজেদের পক্ষে ভোটারদের টানতে প্রার্থীরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেশোরে। এই রমজান মাসে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আর ইফতারের পর থেকে সাহরির আগ পর্যন্ত চলে প্রচারনা। এবারের নির্বাচেন চেয়ারম্যান পদে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে অনেক প্রার্থীই মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটাদের মন জয় করতে সকাল-থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার-প্রচারনা। কিন্তু ভোটাররা কী ভাবছেন? প্রার্থীদের মনভোলানো কথাবার্তায় কতোটা মন গলছে ভোটারদের? বিশ্বনাথ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী জিয়াউল হক অনেকটা ক্ষুব্দ কন্ঠে বলেন, “নির্বাচন আইলে, আমরার কদর বাড়ে”। নির্বাচন গেলেগি কদরও যাইগি।” উপজেলার ইলামের গাও গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন,“অখন প্রার্থী অখলর সালাম লইতে লইতে হেরান! নির্বাচন আইলে প্রার্থীদের দেখা পাই,আর নির্বাচনে গেলেগি নির্বাচিতদের দেখা পাওয়া কষ্ট হয়। বিবিএ পড়ুয়া বাবুল হোসেন মোহন জানান,“ এটা সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার যে নির্বাচন এলেই দেশের ভোটারদের কদর আকাশসম হয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনে হার কিংবা জিতের পর ভোটারদের খবর নেওয়ার কোনো প্রার্থী আর থাকেন না! এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরী।” উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বলেন,“ আমাদের পুরো রাজনৈতিক সিস্টেমটাই স্বার্থপর হয়ে আছে। যেকোনো নির্বাচন এলো, ভোটারদের কদর বাড়লো। ভোট শেষ, কদরও শেষ!” রিক্সাচালক জয়নাল হতাশার সুরে বলেন,“ভাইরে, নির্বাচন তো আমরার লাগি নায়! আমরা গরীব অখলর বায়দি (দিকে) কোনো নেতাটেতাউ চায় না!” উপজেলা সদরের আরো কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে বুঝা গেল, নির্বাচনের সময়টাতেই তাদের কদর বাড়ার বিষয়ে তারা মোটেও সন্তুষ্ট নন। সবার মুখেই একই সুর, শুধু নির্বাচেনর সময়ই নয়, প্রার্থীদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা, সহযোগীতা সারাবছরই যেন সাধারন মানুষের জন্য থাকে।


