দেখার যেন কেউ নেই, বিশ্বনাথে সড়কে ষ্ট্যান্ড? জনদূর্ভোগ চরমে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মে ২০২৪ ইং, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২১২ বার পঠিত
জামাল মিয়া,বিশ্বনাথ
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরে সড়কে সিএনজি ও বাস ষ্ট্যান্ড। জনসাধারনের দূর্ভোগ এখন চরমে। বাস চালকদের দীর্ঘ-দিনের দাবি তাদের স্তায়ী ষ্ট্যান্ড আজও পূরন হয়নি। এতে করে তারা বাধ্য হয়েই যত্রতত্র গাড়ী থামিয়ে যাত্রী উঠানামার কাজটি করেন। সিএনজি গাড়ীও একই অবস্তা। এ কারনেই প্রায়ই উপজেলা সদরে সৃষ্ঠি হয় যানঝটের। এতে মারাতœক দূর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী সাধারন পথচারীদেরকেও। জনসাধারনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের।
সরজমিনে দেখা যায়, বিশ্বনাথ পৌর শহরে অবস্থিত বিশ্বনাথ আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রামসুন্দর সরকারী অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়,বিশ্বনাথ আলিয়া মাদরাসাসহ আরো ছোট খাটো অনেক কিন্ডার গার্ডেন স্কুল রয়েছে পাশ দিয়েই যাওয়া সিলেট-জগন্নাথপুর-ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কটি। নতুন বাজারে রয়েছে হাজী মফিজ আলী বালীকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজসহ আরো অসংখ স্কুল। তাই প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত যান চলাচল করে। যানবাহনে যাত্রী তুলার জন্য কিংবা নামিয়ে দেওয়ার জন্য যানবাহনগুলোর হেলপাড়দের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও উচ্চস্বরে হর্ণ বাজানোর কারনে ব্যঘাত ঘঠছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায়।
ষ্ট্যান্ড না থাকার কারনে যানবাহন চলাচলের পর অবসর সময়েও বাস ও সিএনজিগুলো যত্রতত্র পাকিং করে রাখেন চালকরা। রাস্তার উপর এলোপাতাড়ি ভাবে বাসগুলো পাকিং করার ফলে মানুষের চলাচলের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাধ্য হয়ে যানবাহন চলাচলের ফাঁকে ফাঁকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার কিংবা চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারন পথচারীদেরকে।
বাসচালক ফারুক মিয়া,সিরাজুল ইসলাম সিএনজি চালক নুরুল ইসলাম রফিক মিয়াসহ একাধিক চালক বলেন, স্তায়ীষ্ট্যান্ড না থাকার কারনে আমাদেরকে বাধ্য হয়েই গাড়ী তামিয়ে যাত্রী উঠানামা করতে হয়। একটি স্থায়ী ষ্ট্যান্ড স্থাপন হয়ে গেলে জনসাধারনকে এ দূর্ভোগ পোহাতে হত না। অনেক সময় মানুষের গালমন্দ শুনতে হয়। তাই কতৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত যেনো একটি স্তায়ীষ্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়।
প্রত্যক স্কুল কলেজ ও মাদরাসার একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরার ইসকুলর কান্দাত গাড়ী উবাত (দাঁড়ানো) থাকে। আইতে যাইতে যে ডর (ভয়) লাগে। বাসসহ অন্য গাড়ীগুলো যখন যাওয়া আসায় করে তখন রাস্তায় জ্যাম লেগে যায় তখন আমাদের অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। বিশেষ করে স্কুল টাইমে জ্যাম বেশি লাগে। প্রতিদিন আমাদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই কতৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি হচ্ছে দ্রুত যেন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ব্যাবস্তা নেন।
হাজি মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের আধ্যক্ষ নেহারুন নেছা বলেন, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদের কথা ভেবে হলেও স্কুলের সামনে থেকে বাস সিএনজি ট্রাক এগুলোকে সরিয়ে নেওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। শুধু বাসষ্ট্যান্ড নয় সিএনজি ও ট্রাকষ্ট্যান্ডসহ সকল অস্থায়ী ষ্ট্যান্ডকে একটা স্থায়ী ষ্ট্যান্ড স্থাপন করার দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমি এখন বক্তব্য দিতে পারবো না, বুঝে বক্তব্য দিতে হবে।
এ ব্যাপারে কথা হলে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান ডেইলি বিশ্বনাথ কে বলেন, কিছু কিছু ষ্ট্যান্ড আছে কিন্তু তাতে নিয়ম মত গাড়ী রাখা হচ্ছে না। এটি দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা। এতে করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যর সৃষ্টি হতে পারে। এই সমস্যা নিরসনে আমরা কাজ করছি।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথের পৌর মেয়র মুহিবুর রহমানের সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।


