বিশ্বনাথে বোরো ধানের মাঠ এখন কৃষকের পদভারে মুখরিত
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ইং, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা জুড়ে ধান কাটার ধুম পড়েছে। বোরো মৌসুমে হাওরে বাম্পার ফসল হওয়ায় এবার কৃষক কৃষানীদের মধ্যে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। বোরো মৌসুমের শুরুতেই এলাকাজুড়ে দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। আগাম ফলনকৃত ধান পেঁকে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটার যন্ত্র নিয়ে সকাল থেকেই জমির দিকে ছুটে যাচ্ছেন আর কৃষানীরা তাদের সোনালি ফসল গোলায় উঠাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার উপজেলার কৃষকদের মনে আনন্দের বন্যা বইছে। যে সকল কৃষক এ বছরই প্রথম বোরো চাষ করেছিলেন, তারা ধানের বাম্পার ফলন দেখে বোরো চাষের প্রতি আরো বেশী আগ্রহী হয়ে পড়ছেন, অনেকেই হয়েছেন বোরো ধান চাষ করে বাম্পার ফলনের অধিকারী। সোনালী ধানের মাঠ এখন মানুষের পদভারে মুখরিত। নবীন-প্রবীন মিলে প্রতিটি হাওরে তাই আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। আর এরই মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় চাষকৃত জমির ধানের মধ্যে প্রায় ২৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে এবং বাকী ৭৫ ভাগ ধান ঘোলায় তোলতে আরো ৮-১০ দিন সময় লাগবে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধান। ধান কাটার ধুম পড়েছে মাঠে মাঠে। বৈশাখের প্রখর তাপদাহ মাথায় নিয়ে সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, সময়মতো সার, সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখের প্রখর রোদ্দুর ও তাপদাহ মাথায় নিয়ে কৃষকরা শ্রমিক নিয়োগ করে ধান কাটা, মাড়াই এবং ঘওে তোলার কাজে নিরন্তর সময় ব্যয় করছেন। তবে বেশির ভাগ কৃষকই মেশিনের (কম্বাইনহারভেস্টার) সাহায্যে ধান কাটাচ্ছেন। ধান গোলায় তোলার কাজে কোমর বেঁধে কাজ করছেন কৃষকবধূরাও। বিশেষ করে ঝড়, শীলা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন এমনটাই আশা করছেন কৃষরা।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলমান বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৭২৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এলাকার কৃষকরা ব্রি-ধান ৮৯ ব্রি-ধান ৯২ ও ৭৪ জাতের ধান চাষ করেছেন। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে হাওর ও বিলের সংখ্যা বেশী থাকায় এ ইউনিয়নে বেশী আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাউলধনী, গোয়াহরি গ্রামের বড় বিল, দূর্যাকাপন হাওর, দরঙ্গবিল।
এছাড়া বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বেলার হাওর, ইকরাম বিল (পশ্চিম শ্বাসরাম) রামপাশা ইউনিয়নের নলিয়া বিল, রামচন্দ্রবিল, দোহাল বিল, উকলা বাধ, পাচলার খাল, ইলামেরগাঁও, লামাকাজী ইউনিয়নের হাজারাই বাধ, ভূরকির বিলে ব্যাপকহারে বেরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক আবদুল বারী বলেন, এবছর ফলন ভাল হয়েছে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষে হবে।
কৃষক রইছ আলী বলেন, কৃষকদের পূর্ণবাসনে সরকার বোরো ফসল উৎপাদনের জন্য বিনা মূল্যে সার ও বীজ দিয়েছে। এবার বোরো ফলন ভাল হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, এবারে বোরো ধানের অবস্থা সন্তোষজনক। বর্তমানে ধান কর্তন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প জীবনকালীন ধান এ কর্তনের আওতায় রয়েছে। যে সব ধান কাটা হচ্ছে হেক্টর প্রতি প্রা সাড় ৫টন থেকে ৬ টনের মতো ফলন পাওয়া যাবে। আশাকরি মৌসুম শেষে কৃষকরা ভাল ফলন পাবেন। এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের ফলে যেমন কৃষকরা আনন্দে আছেন, তেমনি আমরাও আনন্দে আছি, আমাদের কষ্ঠটুকু সার্থক হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে কৃষকদের।


