বিশ্বনাথে কোরবানির পশু কেনা-বেচা হচ্ছে ফেসবুক-ওয়াটর্সআপে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মে ২০২৫ ইং, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৩১ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ওয়াটর্সআপে চলছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। তথ্য প্রযুক্তি যুগে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ওয়াটর্সআপে কোরবানির পশু কেনা-বেচা উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পশু কেনা-বেচা এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ফেসবুক ও ওয়াটর্সআপ। গত কয়েকদিন ধরে এমন মাধ্যমে পশু কিনেছেন অনেকই এমন খবর পাওয়া গেছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসী। দেশে আসা প্রবাসীদের চাহিদা দেশি পশু। কয়েকদিন পর ঈদুল আযহা পালিত হবে। তাই দেশে আসা প্রবাসীরা সকাল বেলা হলেই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে দেশি গরুর সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কোরবানি পশু পছন্দ হলেই মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তুলে ফেসবুকে ও ওয়াটর্সআপের প্রবাসে থাকা অন্যান্য সদস্যদের কাছে প্রেরণ করে দিচ্ছেন তারা। আর পরিবারের সদস্যদের যে গরুটি সবার কাছে পছন্দ সেটিই তারা ক্রয় করছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এখনও জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট। আবার অনেকেই নিজেদের পশু বিক্রয় করার জন্য নিজ নিজ ফেসবুকে গরু ছবি পোষ্ট করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রচুর গরু আসছে। কিন্তু কেনা-বেচা একবারেই কম। বিদেশি গরুর চেয়ে দেশি গরু বেশি এসেছে। তবে বাজারে গরু আসলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। গত বারের চেয়ে এবছর গরুর দাম বেশি বলে ক্রেতারা জানান। ব্যবসায়ীরা এখনও ভারতীয় গরু নিয়ে আসতে পারেননি। দামের কারণে বাজারে গরু বিক্রি কম হচ্ছে বলে ধারনা করছেন অনেকেই। এ সপ্তাহের শেষে জমে উঠতে পারে পশুর হাট এমটাই ধারনা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, উপজেলায় প্রতিটি কোরবানির হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে গরু আসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর হাট আনাচে-কানাচে পূর্ণ হয়ে যায়। ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের গবাদি পশু এসব বাজারে পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তাই এমন আকারের গরুর দামও তুলনামূলক বেশি। গত এক সপ্তাহে উপজেলার গরুর বাজারে ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা মূল্যের গরু দেখা গেছে। কোরবানি ঈদে উপজেলার মধ্যে পীরেরবাজার ও বিশ্বনাথবাজারে সব চেয়ে বেশি কোরবানি গরু বেচা কেনা হয়। বাজারের ইজারাদার ক্রেতাদের সুবির্ধাদে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করে রেখেছেন। বাঁশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইন করা হয়েছে। মানুষ চলাচলের জন্য উভয় সারির মধ্যখানে বেশ জায়গা রাখা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহা ঈদ কে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে আসা শুরু করেছেন প্রবাসীরা। মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী মহি উদ্দিন বলেন, চড়া দামে ১০টি গরু কিনেছেন। মোটামুটি একটি গরু কিনতে ৭০ হাজার টাকার দরকার। বেশি দামে গরু ক্রয় করে কম দামে বিক্রির করার সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ী আবুল মিয়া জানান, এবার পশুর আমদানি যথেষ্ট থাকলেও এখনও তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। ক্রেতারা পশু দেখছেন এবং দরদাম করে ধারণা নিচ্ছেন। পৌর শহর এলাকার মানুষের পশু রাখার জায়গা না থাকায় তারা এখনো পশু কিনতে শুরু করেনি। গ্রাম এলাকার লোকজন আগেভাগেই কিনছেন তাদের পছন্দমতো কোরবানির পশু। তবে ফেইসবুক ও ওয়াটর্সআপেও চলছে গরু কেনা বেচা।
ক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, ভারত থেকে গরু না আসা এবং গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার গরুর দাম চড়া।
সদ্য দেশে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল ইসলাম জানান, ঈদ করতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশে এসেছি। কোরবানির জন্য দেশি গরু ক্রয় করতে আগ্রহী। এলাকা ঘুরে কয়েকটি গরু দেখেছি। আর এসব গরুর ছবি মোবাইলে তুলে ওয়াটর্সআপের মাধ্যমে প্রবাসে থাকা অন্যান্য সদস্যদের কাছে দিয়েছি। তবে তাদের গরুটি পছন্দ হলে ক্রয় করব।


