বিশ্বনাথে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি? অবাধে নিধন হচ্ছে পোনা মাছ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ মে ২০২৫ ইং, ৪:০২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৭১ বার পঠিত
জামাল মিয়া :: বিশ্বনাথে বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন নদ-নদী ও পানি বেড়ে যাওয়ার কারনে এতে এলাকার জেলে ও সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে মাছ শিকার। এতে মাছের পোনা অবাধে নিধন করা হচ্ছে। এসব পোনা মাছ জেলেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়। পোনা মাছ নিধন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে যদি প্রতিদিন পোনা মাছ নিধন হয়, হারিয়ে যাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় চলছে মাছের আকাল। দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে পোনা মাছ নিধন বন্ধ করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে বলে উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার নতুন বাজার, পুরান বাজার, হাবড়া বাজার, বৈরাগী বাজার, পীরের বাজার, আমতৈল বাজার, রামপাশা বাজার, লামাকাজি বাজার, মাহতাবপুর মাছের আড়ৎ, দশপাইকার বাজার, রাজাগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন পোনা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বাজারে কই মাছ, গোয়াল, টাকি মাছ, পুটি মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা পাওয়া যাচ্ছে।
ইয়াছিন আলী, কাওছার মিয়া, শফিকুল ইসলাম সফিক জানান, বিগত কয়েক বছর আগে উপজেলা মাছের কোন অভাব ছিল না। এখন হাট-বাজারে মাছের বড় আকাল চলছে। বছরের অধিকাংশ মাসে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও সেগুলো চড়া দামে বিক্রি হয়। প্রতি বছর বর্ষার শুরুতে নির্বিচারে মা ও পোনা মাছ নিধন এবং হেমন্ত মৌসুমে খাল, বিল, নদী-নালা সেচের মাধ্যমে মাছ ধরার ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী-খাল-বিল ও ফসলি জমিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজন মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছেন। মাছ শিকার করতে অনেকের হাতে রয়েছে ঠেলা জাল, উড়াল জাল, বেল জাল, চিটকা জাল, বাঁশের তৈরি ডরি। এসব মাছ ধরার যন্ত্র দিয়ে বড় মাছের চেয়ে মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বেশি। মনের আনন্দ অনেকেই মাছ শিকার করতে দেখা যায়। মাছ শিকারী মানিক আলী বলেন, বর্ষা মৌসমে মাছ শিকার করার আনন্দটাই আলাদা। তাই মাছ শিকার করে আসছি। এসময় মাছের পোনা বেশি পাওয়া যায়। পোনা মাছ খেতে ভাল লাগে।
লিটন মিয়া বলেন,নদ-নদী-খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন এলাকার লোকজন মাছ শিকার করে আসছেন। এতে মাছের পোনা বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা সদরের পুরান বাজার মাছ ব্যবসায়ী আবুল মিয়া বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া খুব মসকিল। মাঝে মাঝে দেশী মাছ পাওয়া গেলেও আড়ৎ থেকে চড়া দামে ক্রয় করে আনতে হয়। বর্ষা মৌসমে গ্রামাঞ্চল থেকে পোনা মাছ ক্রয় করে এনে বাজারে বিক্রি করি।
এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা মংস্য কর্মকতা স্বপন কুমার ধর বলেন, ছোট মাছ বাচঁতে প্রতি বছরের ন্যায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মোবাইল কোটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।


