ওসমানীনগরে দুই বছর ধরে বিনা ছুটিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষিকা!
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৮:৫০ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৮৫৮ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিনা ছুটিতে গত দুই বছর ধরে কর্মরত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন প্রাক-প্রাথমিক বিভাগের এক সহকারী শিক্ষিকা। অভিযোগ পাওয়া গেছে কর্মরত বিদ্যালয়ে বাস্তবে অনুপস্থিত থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কাগজে পত্রে উপস্থিতি দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলার ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে মৌখিক ও লিখিত আবেদন করলেও সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ ব্যাপারে রহস্যজনক নিরবতা পালন করে যাচ্ছেন। এদিকে উক্ত বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নে ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন লাকি বেগম। যোগদানের পর দুই মাস নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করলেও বিগত ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী হইতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে বিনা ছুটিতে অদ্যবদি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু যথারীতিভাবে উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তাসহ অফিস স্টাফদের ম্যানেজ করে ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মকর্তা রয়েছেন মর্মে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও বিষয়টির কোনো সূরাহ হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার দেব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী হইতে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মরত ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে যথারীতি বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিচ্ছেন। শিক্ষিকার দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ফলে এ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বার-বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবগত করলেও কোন কাজ হচ্ছে না। কাগজে পত্রে ঐ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার উপস্থিতি ঠিক থাকায় ওই পদে নতুন শিক্ষকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: সানুর মিয়া বলেন, শিক্ষিকার দীর্ঘ দিন ধরে অনুপস্থিত কারনে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগযোগ করে জানতে পারি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির কোনো বিধান না থাকলেও ওই শিক্ষিকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কর্মরত বিদ্যালয়ে না এসে বালাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক বিভাগের একজন শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত থাকা স্বত্বেও লাকি বেগম মনগড়াভাবে বালাগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করছেন। মাস শেষে ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি দেখিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার লিখিত আবেদন করলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে ওই শিক্ষিকার সখ্যতা থাকায় বিষয়টি কোন সূরাহ হচ্ছে না। অবশেষে এ ব্যাপারে আমরা মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করেছি।
শিক্ষিকা লাকি বেগম ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি দেখিয়ে দুইবছর ধরে বেতন ভাতা উত্তোলন করে নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারদের নির্দেশে আমি বালাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথা নিয়মে প্রতিদিন পাঠদান দিয়ে যাচ্ছি।
বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষিকা লাকি বেগম দীঘদিন ধরে বালাগঞ্জ আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি একটি প্রতিবেদন সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়ের বরাবরে প্রেরণ করেছি।


