বিশ্বনাথ আ’লীগের সম্মেলনে লড়াই হবে হাড্ডা-হাড্ডি
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুন ২০১৫ ইং, ৭:০৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৭৮ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: দীর্ঘ একযুগ পর বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ৮জুন অনুষ্ঠিত হবে। ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিশ্বনাথ উপজেলা। প্রার্থীরা ভোটার ও কাউন্সিলারদের কাছে ধরনা দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। রৌদ্র-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রার্থীরা ভোটাদের বাড়ি বাড়ির ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনাও করছেন। নতুন পদপ্রাপ্ত নেতারা পুরনোদের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দিক তুলে ধরছেন। অন্যদিকে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরাও তাদের অতীতের সফলতা তুলে ধরে নতুনদের চ্যালেঞ্জ করছেন। কাউন্সিলরদের মন জয় করতে নেতৃস্থানীয়দের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলা আওয়ামী রাজনীতির মাঠ।
এবারের সম্মেলনে দুটি পদে ছয়জন প্রার্থী অংশগ্রহন করছেন। তারা হলেন-বর্তমান কমিটির সভাপতি মজম্মিল আলী, আওয়ামীলীগ নেতা পংকি খান, আওয়ামীলীগ নেতা ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
প্রার্থীরা কাউন্সিলরদেরকে নিজেদের দিকে টানতে প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তাদের অনুসারীরাও গ্রুপ-উপ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাউন্সিলরদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থীকে জয়ী করতে। তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে ভিন্ন পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ১৮৩ জন কাউন্সিলর তাদের পছন্দের প্রার্থীকে গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্মেলনে নির্বাচন হলে সভাপতি পদে মজম্মিল আলী, পংকি খান, ফখরুল ইসলাম মতছিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে বাবুল আখতার ও ফারুক আহমদের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি হড়াই হবে এমটাই মনে করছেন অনেক তৃণমূল নেতারা। তবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা মনে করছেন সম্মেলন সঠিকভাবে হলে পরির্তনের হাওয়া লাগতে পারে।
ইতি মধ্যে সম্মেলনের অতিথির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এবারের সম্মেলনে কোনো মন্ত্রী থাকছেনা বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে। উপজেলা সদরে সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে এখনও বিল-বোর্ড কিংবা তোরণ নির্মাণ করেন প্রার্থীর পক্ষের সমর্থনকারীরা। তবে দুই-একদিনের মধ্যে বিল বোর্ড ও তোরণ নির্মাণ করা হবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান।
তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানাযায়, সম্মেলনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে সম্মেলনে নির্বাচন হলে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হওয়ার আশংকা বেশি। সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ ধারীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তারা বলছেন, এবার আ’লীগের সৎ-যোগ্য, দক্ষ-সাহসী এবং ত্যাগী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে দেখতে চান তারা। যারা দল এবং নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি তৃণমূলের সমর্থন থাকবে।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০০৪ সালে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আবদুস সামাদ আজাদ উপস্থিততে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন এবং একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিল অধিবেশের মাধ্যমে সম্মেলন সম্পন্ন হয়। ২০০৪ সালে সেপ্টেবর মাসে মজম্মিল আলীকে সভাপতি ও বাবুল আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ইতি মধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী মজম্মিল আলী বলেন, দলকে সংগঠিত এবং দলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কাউন্সিলরদের কাছে যাচ্ছি। তিনি নির্বাচিত হবে বলে আশাবদি।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বাবুল আখতার বলেন, দীর্ঘদিন দল এবং নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকতে চাই। দলকে সংগঠিত রাখতে যোগ্যদের মনোনীত করতে কাউন্সিলরা ভুল করবেন না।


