বিশ্বনাথে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুন ২০১৫ ইং, ২:০১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৫৩২ বার পঠিত
জামাল মিয়া::সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতি এলাকায় মাছের আকাল চলছে। মাছ পাওয়া গেলেও দাম আকাশচুম্বী। বাড়তি মূল্য দিয়ে মাছ পাওয়া যায়, তবে এই অস্বাভাবিক মূল্য দিয়ে মাছ কিনে খাওয়ার সামর্থ্য অনেক মানুষের নেই। বিশেষ করে দিনমজুর,স্বল্প আয়ের লোকজন কিংবা যারা নীতিনিয়ম পালন করে বেঁচে আছে তাদের পক্ষে চড়া দামে মাছ কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক সময় গ্রামে বসবাসকারি খেটে খাওয়া মানুষ বিভিন্ন খাল বিল,ডোবা ও নিচু জমিতে জমে থাকা পানি থেকে মাছ সংগ্রহ করত।
তাছাড় বিত্তশালীদের পুকুর থেকে জাল দিয়ে মাছ হাত দিয়ে ধরে, বড়শি দিয়ে মাছ ধরত। এখন দিনের পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কারও পুকুর থেকে মাছ ধরতে দেয় না। চুরি করে ধরলে সেটা অন্য কথা। তবে চুরি করে মাছ ধরার ঝুকিও কম নয়। ধরা পড়লে মারধর খেতে তো হবে। রয়েছে থানা পুলিশের ভয়ও। সত্তর দশকের শেষ সময় পর্যন্ত মাছের এই দুর্ভিক্ষ ছিল না। তখন অবশ্য জনসংখ্যা ও বর্তমানের তুলনায় কম ছিল। কোনে স্থানে জালের খোপ মারলে দেশীয় প্রজাতির হরেক রকমের মাছ পাওয়া যেত। সেদিন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জনসংখ্যা সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পাহাড়ি ঢলের পলি এসে নিচু জমি ভরাট হয়ে গেছে। খাল,বিল দীর্ঘদিন সংস্কার ও খননের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে। স্থান বিশেষে খাল ও বিল নমুনা পর্যন্ত মুছে গেছে। প্রতিযোগীতামূলক ভাবে পুকুর-দীঘি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে
ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। ডোবা ও খাল তো নেই-ই। জনসংখ্যার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রায় ২০টি বিলে মাছ প্রবেশ করছে না। জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ,কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মাছের আবাদ কমে গেছে। আবার কারেন্ট জালের কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি হতে পারছেনা। পরিবেশ দূষন,কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের কারনে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ৩০ ধরনের মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত মাছের মধ্যে রয়েছে ভেদা মাছ, বাইন মাছ, ফলই মাছ, চিতল মাছ, চেং মাছ, শিং মাছ, মাগুর মাছ, শোল মাছ, খৈ মাছ, রানী মাছ প্রভৃতি। দেশীয় প্রজাতির এই মাছ কোনো হাট-বাজারে দেখা গেলেও দাম অন্যান্ত চড়া।


