বিশ্বনাথে বাসিয়া নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ মার্চ ২০২৫ ইং, ৩:০৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৯৫ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরোনো বাসিয়া নদী দূষণমুক্ত করতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট সিটি করর্পোরেশনের সহযোগিতায় ও বিশ্বনাথ পৌরসভা উদ্যোগে এ নদীর ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার-পরিচ্ছনতা অভিযান শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (২২ মার্চ) কাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রশাসক সুনন্দা রায়ের নেতৃত্বে বাসিয়া নদীর উপজেলা কোর্ট পয়েন্ট থেকে টিএন্ডটি রোড পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরপর থেকে পরিষ্কার অভিযান আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে। নদীর পরিচ্ছনতা কর্মসূচি উদ্বোধনী উপলক্ষে পৌর শহরের নতুন বাজারস্থ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আলা উদ্দিন কাদেরের সভাপতিত্বে ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী জগন্নাথ সাহের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায়।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাইদ, পৌর প্রকৌশলী ভবি মজুমদার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মতিউর রহমান, বিশ্বনাথ বিশ্বনাথ থানার এসআই সাঈদ আহমদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শিপন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিবর্গ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন বজ্য ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কাজটি বিশ্বনাথ পৌরসভার টিএন্ডটি রোড মোড় থেকে উপজেলা কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত ৫দিন কার্যক্রম চলবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসিয়া নদীর বজ্য অপসারন ৫দিন চলবে। এতে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। সেই বজ্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ডাম্পিং ষ্টেশনে ফেলা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বনাথ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরোনো বাসিয়া নদীটি ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। নদীতে ময়লা-আবর্জনায় সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ। বাসা-বাড়িতে জমানো পলিথিন,পচা-বাসি খাবারসহ ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে নদীটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পৌরবাসীর র্দীঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানো শুরু হয়েছে। নদীর ময়লা-আবর্জনা এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে অপসারণ করছে পৌরসভার বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কাজে সহযোগিতা করেন।
পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, নদীর দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত মশা থাকায় এর পাশ দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা ময়না মিয়া বলেন, ‘পুরোনো বাসিয়া নদীটি পরিষ্কারে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। পৌরসভা এমন উদ্যোগ করায় খুশি তারা। নদীটি দখল-দূষণমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকুক।
পৌর শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা জামাল আহমদ বলেন, ‘নদীটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দোকান পাঠ ও বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করে পানি। তাছাড়া ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগ জীবাণু।’
পৌর প্রসাশক আলা উদ্দিন কাদের বলেন, ‘আমরা দ্রæত নদীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে এর সৌন্দর্য ফিরে আনতে চাই। এতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। পৌর শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পুরোনো বাসিয়া নদী যেন পরিচ্ছন্ন করা হয়। সিলেট সিটির সহযোগিতা আমরা নদীটি দূষণমুক্ত করতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগে নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


