যে পাঁচ কারণে আর্জেন্টিনাই হবে চ্যাম্পিয়ন!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুলাই ২০১৫ ইং, ৮:১৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯০০ বার পঠিত
নিউজ ডেক্স:: ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে হতাশ হতে হয়েছিল। ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এবার কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তাদের সামনে ৪ জুলাইয়ের ফাইনালে এখন স্বাগতিক চিলি। ১৯৯৩ সালের পর আবার আর্জেন্টিনার সামনে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। লিওনেল মেসির দল কি পারবে মহাদেশীয় শিরোপা জিতে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে? কেন পারবে না? তাদের পারার পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হলো।
১. লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনা দলের প্রাণ ভোমরা মেসি। এবারের কোপায় মাত্র একটি গোল করেছেন। কিন্তু কোচ টাটা গেরার্দো মার্তিনো তাকে সরাসরি গোল মুখে না রেখে রাইট উইং ধরিয়ে খেলাচ্ছেন। তাতে মাঝমাঠে অবারিত ঘোরাফেরা মেসির। মাঝমাঠের সাথে সমন্বয় রেখে প্রতিপক্ষকে প্রতি মূহূর্তে বিপদে রাখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। ফরোয়ার্ড লাইনের সাথেও থাকছে সরাসরি যোগোযোগ। মেসির কারণেই কলম্বিয়ার সাথে দারুণ খেলেছে আর্জেন্টিনা। আর সেমিফাইনালে প্যারাগুয়েকে তো উড়িয়ে দিয়েছে মেসির দল। ৬-১ গোলের ওই জয়ে কোনো না কোনোভাবে ৫টি গোলেই মেসির অবদান। যদিও নিজে গোল করেননি একটিও।
২. গোলের জন্য মেসিকে দরকার না হওয়া
গ্রুপ পর্বে প্যরাগুয়ের বিপক্ষে এবারের আসরের একমাত্র গোলটি করেছিলেন মেসি। তারপর আর গোল পাননি। গোল কেবল করাচ্ছেন। এটি আর্জেন্টিনার জন্য বড় একটি ব্যাপার। সার্জিও আগুয়েরো গোল পেয়েছেন। হিগুয়াইন লক্ষ্যভেদ করেছেন। সেমিফাইনালে রোহো, পাস্তোরে গোল করেছেন। দুটি গোল এসেছে দি মারিয়ার কাছ থেকে। দলে এখন অনেক স্কোরার! গ্রুপ পর্বে যে দলটি গোল খরায় ভুগছিল সেমিফাইনালেই তারা করেছে গোল উৎসব। আর একজন দুজন নয়, সেমিতে পাঁচজন করেছেন গোল! অথচ গোল মেশিন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসিকে দরকারই পড়েনি গোলের জন্য!
৩. দল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা
একাদশে পরিবর্তনের খুব একটা পক্ষে নন কোচ মার্তিনো। কোপার আগেও যেমন ছিলেন, কোপাতেও তেমন নির্দিষ্ট একটি একাদশে ভরসা তার। রসকাগ্লিয়া ও বেনেগা প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন। ছিলেন তারা পাবলো জাবালেতা ও লুকাস বিগলিয়ার ফিটনেসের সমস্যার কারণে। তারপর থেকেই একাদশে তারা। মার্তিন দেমিচেলিস একাদশে এসেছেন দুবার। একবার জ্যামাইকার বিপক্ষে ওতামেন্দির সাসপেনশনের কারণে। আরেকবার সেমিফাইনালে গ্যারের অসুস্থতার জন্য। আগুয়েরোকে জ্যামাইকার বিপক্ষে দেওয়া হয়েছিল বিশ্রাম। ইনজুরি কিংবা অসুস্থতা কিংবা সাসপেনশনের কারণ ছাড়া একাদশে পরিবর্তন আনার পক্ষে নন মার্তিনো।
৪. চাপেও অবিচল থাকা
আর্জেন্টিনার মতো পেশাদার দলের জন্য চাপ খুব বড় ব্যাপার নয়। অনেক বড় টুর্নামেন্ট ও ফাইনাল খেলেছে তারা। তাদের প্রত্যেক খেলোয়াড়রই কোনো না কোনো বড় ক্লাবের চালিকাশক্তির মতো। তবু প্রত্যেক ম্যাচের ভিন্ন একটি চাপ থাকে। গেলো বিশ্বকাপের ফাইনালেও চাপের মধ্যে ভেঙে পড়েনি তারা। অতিরিক্ত সময়ে গোজের গোল করেছিল তাদের সর্বনাশ। চাপের মধ্যেও অবিচল থাকা আর্জিন্টিনা দল শনিবারের ফাইনালে চিলির বিপক্ষে এগিয়ে থাকবে।
৫. চিলির বড় পরীক্ষা
সন্দেহ নেই ফাইনাল চিলিতে হলেও চিলির বিপক্ষে এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে চিলি মেক্সিকোকে হারিয়েছে। কিন্তু ওই দলে বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল না। একই ভাবে ইনজুরি আক্রান্ত ইকুয়েডর ও বলিভিয়ার সাথে খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। এটা ঠিক যে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে হারিয়েছে। কিন্তু ওই দলটিতে ছিলেন না গতবার উরুগুয়েকে কোপা চ্যাম্পিয়ন করায় বড় ভূমিকা রাখা লু্ই সুয়ারেস ও ডিয়েগো ফোরলান। সেমিফাইনালে পেরু চিলিকে কঠিন সময় উপহার দিয়েছিল। কিন্তু ৭০ মিনিটের মতো সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে পেরুকে। সব মিলিয়ে এ কথা বলাই যায় যে ফাইনালে এসেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় পড়তে হচ্ছে চিলিকে। কারণ, আর্জেন্টিনার মতো এলিট দলের বিপক্ষে ফাইনালের আগে লড়তে হয়নি তাদের। আর্জেন্টিনা তো এগিয়ে থাকবেই।


