ওসমানীনগরে কুশিয়ার ডাইক ভাঙ্গন : সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্দি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জুলাই ২০১৫ ইং, ৯:১৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৬৩ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: কুশিয়ার ডাইকের একাধিক স্থানে ভাঙ্গন ধরে উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পানি বন্দী হয়ে আছে সিলেটের ওসমানীনগর নবীগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার নদীর পারের সহস্রাধিক পরিবার।এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গনকবলিত লামাতাজপুর এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাবেক সাংসদ ও সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, পাউবি’র উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সরকার, উপ-সহকারী কর্মকর্তা গোলাম বারি, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ বাছিত মিয়া প্রমুখ। পরিদর্শনকালে উর্ধ্বতন কর্তৃপ এলাকাবাসীকে অচিরেই ডাইকটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী ওসমানীনগরের লামা তাজপুর, দক্ষিন তাজপুর,পূর্ব তাজপুর, ঐয়া,নত্তাগাঁও, সাদীপুর,ইসলামপুর আবদুল্লাহপুর,ধর খা,বালাগঞ্জে গালিমপুর, জালালপুর, সাদেক পুর, হামছাপুর, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক গ্রাম, কসবা, চরগাঁও, উমরপুর, গালিমপুর, মাধবপুর, কুমারকাঁদা (একাংশ), আহম্মদপুর, ফাদুল্লা, রাধাপুর, জামারগাঁও, রাধাপুর প্রাইমারী স্কুলসহ বেশ কিছু এলাকা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বাড়ি-ঘরে আবার অনেকের বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে প্রায় কয়েক শত একর জমির হালি চারা। এনিয়ে তিন উপজেলার নিম্নাঅঞ্চলের কৃষকরা রয়েছেন মহা দুঃচিন্তায়। ইতিমধ্যে বেশ ক’য়েকটি মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া কুশিয়ারা ডাইকের স্থানে স্থানে ভেঙ্গে ভিতরে পানি প্রবেশ করছে। জরুরী ভিত্তিতে কুশিয়ারা নদীর ওই ডাইকের মেরামত করে অকাল বন্যার হাত থেকে তিন উপজেলার বাসিন্দাদের রক্ষা করার প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়া গত ক’দিন ধরে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে তিন উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে।
পাউবি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওসমানীনগর থেকে বালাগঞ্জ পর্যন্তপ্রায় ৩৪ কি.মি. এলাকায় নির্মিত হয় কুশিয়ারা ডাইক। পরবর্তী সময়ে ওসমানীনগর এলাকার একাধিক স্থানে ভাঙ্গন এবং একাধিক স্থান ওয়াটার লেভেলের নিচে থাকলেও তা সংস্কার করা হয়নি।
লামা তাজপুর গ্রামের শাহ ইয়াহইয়া জানান, আমাদের এলাকা দিয়ে যাওয়া কুশিয়ারা ডাইকে ব্যাপক ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে ডাইকের ভিতরে পানি প্রবেশ করছে। গত দুইদিন ধরে যেভাবে ডাইকের ভিতরে পানি প্রবেশ করছে এভাবে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তিন উপজেলার হাজার হাজার গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়বে। ডাইকে ফাটল দেখার কারণে আতংকে রয়েছেন ওই এলাকার লোকজন।
এব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান,সিলেট জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত ওসমানীনগর উপজেলার গ্রামগুলো সহ ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করেছি।
এব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান,সিলেট জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত ওসমানীনগর উপজেলার গ্রামগুলো সহ ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করেছি।
নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলঙ্গীরর চৌধুরী বলেন, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী গ্রাম গুলোর লোকজন পানি বন্দি অবস্থার খবর পেয়েছি। সরজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য ত্রাণ মন্ত্রনালয়কে জানানো হয়েছে। পানিউন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামত করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাউবি’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, বাধটি ওয়াটার লেভেলের নিচে হওয়ায় পানি ঢুকছে। তা উচু করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আশা অচিরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।


