আটকের পর ছাড়া পেল ভুয়া সাংবাদিক এনাম
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জুলাই ২০১৫ ইং, ৮:১২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২০৩৪ বার পঠিত
নিউজ ডেক্স:: ভূয়া সাংবাদিকের ফাঁদে পড়া এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে আটক করেছে পুলিশ। আর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারনা করতে গিয়ে নিজের পাতা ফাঁদে আটকের পর শুক্রবার সকালে ভুয়া সাংবাদিক ও প্রতারককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার আটক ভূয়া সাংবাদিক এনাম আহমদকে শুক্রবার সকলে পুলিশ ছেড়ে দিলেও অটোরিকশা চালক মাহতাব আহমদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হেতিমগঞ্জের নিজতাপা গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মাহতাব আহমদ এসএসসি ৪টি ও এইচএসসি পরীক্ষার ৪টি মোট ৮টি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নকল সার্টিফিকেট নিয়ে কিনব্রিজের কাছে আসেন। কিনব্রিজের কাছে এসে তিনি ফোন দেন বিশ্বনাথ উপজেলার এলাকার মৃত আফছর আলীর ছেলে এনাম আহমদকে। এনাম দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দলকে সাথে নিয়ে জাল সার্টিফিকেটসহ মাহতাবকে ধরিয়ে দেন।
থানা হাজতে থাকা মাহতাব সাংবাদিকদের জানায়- জাল সার্টিফিকেটগুলো তাকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ নিজতাপা গ্রামের মহি উদ্দিন আহমদের ছেলে বেলায়েত হোসেন সবুজ (একই এলাকার) দিয়ে বলেছে এনামের কাছে পৌঁছে দিতে। সবুজের কথামতো সে কিনব্রিজের কাছে এসে এনামকে ফোন দেয়। পরে এনাম পুলিশ নিয়ে এসে তাকে ধরিয়ে দেয়।
এব্যাপারে এনামের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ফাঁদ পেতে জাল সার্টিফিকেটসহ সবুজকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল এনাম। জাল সার্টিফিকেটের জন্য বেলায়েত হোসেন সবুজের সাথে তার ৩২ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। কিন্তু সার্টিফিকেট নিয়ে বেলায়েত হোসেন সবুজ নিজে না আসায় তাকে আটক করাতে পারেনি। সার্টিফিকেট বাহক অটোরিকশা চালক মাহতাবকে শেষ পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে, মাহতাবকে আটকের পর এনাম নিজে যোগাযোগ করে মাহতাবের পরিবারের সাথে। এসময় আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাহতাবের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে সে। মাহতাবের পরিবারের লোকজন তাকে ছাড়িয়ে নিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপনের শরণাপন্ন হন।
২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন জানান, রাত ৯টার দিকে এনামকে নিয়ে তার অফিসে আসে। এনাম নিজেকে এনটিভির বিশ্বনাথ প্রতিনিধি বলেও দাবি করে। তার কাছে এনটিভির একটি পরিচয়পত্রও পাওয়া যায়।
এনামের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় কাউন্সিলর লিপন বক্স দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি এসএম আতাউর রহমান ও এনটিভির সিলেটের ব্যুরো প্রধান মঈনুল হক বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করেন জানতে পারেন তার সাংবাদিক পরিচয় ভূয়া। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সে নিজের আখের গোছাতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে।
প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত জনতা এনামকে উত্তম মধ্যম দেন। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই জিতেশ কুমার দাসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে এনামকে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওসি এসএম আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এনাম দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারি পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলামের সোর্স। শুক্রবার সকালে মুছলেখা নিয়ে এনামকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আর ধৃত সিএনজি চালক মাহতাবের কাছ থেকে ৮টি জাল সার্টিফিকেট উদ্বার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-২৬.৩১/০৭/১৫। আটক সিএনজি চালক মাহতাবকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সূত্র সিলেট নিউজ ২৪ ডটকম


