ওসমানীনগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁলছে তালা
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০১৫ ইং, ১১:১৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৭৪ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগরে গত এক সপ্তাহ থেকে কাউকে কিছু না বলে বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন শাহজালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এমন কি রোববার এক যোগে সিলেট জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ঐ বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষা না দিতে পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। ফলে উক্ত বিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রোববার একাধিক অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিত্বে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সাদীপুর ক্লাষ্টারের শাহজালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ে তালা ঝুঁলছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিদ্যলয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়া রানী চন্দ্র ও সহকারী শিক্ষক প্রবিত্র কুমার ব্যাপারী বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে গত এক বছর থেকেই মনগড়া ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এনিয়ে সাধারণ অভিভাবকরা বার বার অভিযোগ করেও কোনো সুফল পায়নি। ২৫ জুলাই রমজানের ছুটির পর যথাযথ ভাবে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চললেও উক্ত বিদ্যালয় বন্ধ থাকে। এমন কি ২য় সাময়িক পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা কিছুই জানেনা। রোববার পাশ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় সাময়িক পরীক্ষা চলছে এমন খবর পেয়ে অধিকাংশ অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয়টি বন্ধ পান। একাধিক অভিভাবকরা মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরীক্ষার বিষয়ে মনগড়া বক্তব্যে প্রদান করেন। পরবর্তীর্তে একাধিক অভিবাবকরা উপজেলা সাংবাদিকদের অবগত করলেও সাংবাদিকরা সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করলেও বিদ্যালয়ের তালা ঝুলতে দেখা যায়।
অভিভাবক নুর উদ্দিন,লিলু মিয়া,শানুর খান জানান, এলাকার সহজ সরল মানষদের নানা অযুহাতে ধোকা দিয়ে বিদ্যালয়টি গত এক বছর যাবত মনগড়া ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক জয়া রানী ও প্রবিত্র কুমার। রমজানের ছুটির পর এলাকার অনান্য বিদ্যালয় চালু হলেও আমাদের বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। রোববার বিদ্যালয়গুলোতে ২য় সাময়িক পরীক্ষার হলেও আমাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষা না নিয়ে অন্যান্য দিনের মতো বন্ধ করে রেখেছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিক মিয়া, ক্বারিমা বেগম,শিবলু মিয়া,জিবা বেগমসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের পার্শ¦বর্তী বিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা আজ (রোববার) দিলেও আমরা পরীক্ষার রোটিনও পাইনি। আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পূর্বের ন্যায় বিদ্যালয় বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি গনি মিয়া বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন, আমি গত শনিবার থেকেই বিদ্যালয়ে এসে অন্তত পরীক্ষাটি নেয়ার জন্য একাধিক বার মোবাইল ফোনে শিক্ষকদের অনুরোধ করেছি। কিন্ত কর্মরত শিক্ষকরা তাতে কর্ণপাত করেননি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়া রানী চন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,অটোরিকশা বন্ধ থাকার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে ঐ বিদ্যলয়ের কর্মরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শিক্ষকরা যদি এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখেন এটা চরম অন্যায় খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


