শ্যালিকার গর্ভে দুলাভাইয়ের অবৈধ সন্তান : হত্যার পর সন্তান গুমের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুন ২০১৫ ইং, ৪:০৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪৯৯ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি::সিলেটের ওসমানীনগরে নিজ শ্যালিকার সঙ্গে পরকিয়া প্রেমের মাধ্যমে দুলাভাইয়ের অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়ার পর হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার দয়ামির ইউনিয়নের আনসার ভিডিভির ইনচার্জ ফারুক মিয়া স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে প্রেরন করা হয়েছে। এর পূর্বে মানবাধিকার কমিশনের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার দয়ামীর গ্রামের মৃত তৈয়ব উল্যার পুত্র আফছর আলী (৪০) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অসামাজিক কর্মকান্ড করে আসছেন। এনিয়ে এলাকায় একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। সম্প্রতি তিনি তাঁর ঘরে বসবাসকারী স্বামী পরিত্যাক্ত শ্যালিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে শ্যালিকা গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে গত ২২ মে প্রথমে দয়ামীর এলাকায় প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঐ দিনই সিলেট শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর শ্যালিকার গর্ভে কন্যা সন্তন জন্ম নেয়। গত ২৩ মে কন্যা সন্তান সহ শ্যালিকাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসেন আফছর আলী। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর আফছর আলী এ অবৈধ সন্তানকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে শ্যালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যান ।
পরবর্তীতে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য এলাকাবাসি ফুঁসে উঠে গত ৪ জুন এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে আফছর আলীর অভিভাবকদের ডেকে এনে আফছর আলীকে আগামী বৈঠকে উপস্থিত করার জন্য বলা হয়। গত তিন দিন ধরে আফছর আলী শ্যালিকা অনত্র রেখে গ্রামে এসে অবাধে চলাফেরা করছেন। এ নিয়ে এলাকায় সহিংসতার আশংঙ্কা বিরাজ করছে। বিষয়টি সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার নায়ক আফছর আলীর দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে ফারুক মিয়া স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ পুলিশ সুপার বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকার মুরব্বি সোনাওর আলীর মাষ্টার বলেন, বিষয়টি আমরা জানার পর বৈঠকে বসে আফছর আলীর আত্বীয়-স্বজনকে ডেকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি। ঘটনাটি ন্যাক্কার জনক সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার হওয়া উচিত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছাদ উল্ল্যা বলেন, বিষয়টি লোক মুখে শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা সত্য হলেও অবশ্যই এর শান্তি হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম সোহেল ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত আফছর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সে আমাদেরকে নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি ওসমানীনগর থানার ওসিকে মৌখিক ভাবে অবগত করে রেখেছি।
অভিযুক্ত আফছর আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ওসমানীনগর থানার ওসি মোঃ মুরসালিন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


