ওসমানীনগরে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ৪:০৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২১৯ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: কোরবানী ঈদ সামনে রেখে জমে উঠছে ওসমানীনগর উপজেলার স্থায়ীসহ ১৩ পশুর হাট। পশু কেনা বেচায় সরব হয়ে উঠছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাঙ্গনে ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট দর-পত্রের মাধ্যমে ইজার দেয়া হয়েছে। বাজারে আসা অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন গত বছরের চেয়ে এবছর গরুর দাম অনেক বেশি।
জানাগেছে, উপজেলায় প্রতিটি কোরবারনীর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে গরু আসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারগুলোতে কোরবানীর পশুতে হাটের আনাচে কানাচে পূর্ণ হয়ে যায়। ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের গবাদি পশু এসব বাজারে পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাই বেশি দেখা গেছে। তাই এমন আকারের গরুর দামও তুলনামূলক বেশি। গত এক সপ্তাহে উজেলার গরুর বাজারে ২৫ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা মূল্যের গরু দেখা গেছে। অন্যদিকে, দেশী ছাগল ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের রাম ছাগল উঠেছিল। উপজেলার মধ্যে গোয়ালাবাজার ও দয়ামীর বাজারে স্থায়ী পশুর হাট ছিল। এ হাট ছাড়াও উপজেলার ১১টি পয়েন্টে অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাট হলো, ময়না বাজার, মাদার বাজার, খন্দকার বাজার, পীরের বাজার, তাজপুর বাজার, পশ্চিম পীরের বাজার, বুরুঙ্গা বাজার, খসরুপুর বাজার, নিউ মার্কেট, হাজিপুর বাজার ও চাতলপার বাজার। অস্থায়ী ১১টি কোরবানীর পশুর হাট ৩ লাখ ৯৮হাজার ৫শ ৫০ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলার উমরপুর বাজার প্রতিবছর কোরবানীর ঈদে দর-পত্রের মাধ্যমে অস্থায়ী পশুর হাট হিসাবে ইজারা প্রদান করা হলেও এ বছর কৌশলে স্থায়ী পশুর হাট দাবি করে বাজারে পশুর হাট বসিয়ে রশিদের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিচ্ছে একটি মহল।
ওসমানীনগর উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী গরু-ছাগলের হাট হওয়ায় উমরপুর বাজারে অস্থায়ী ইজারা দেয়া হয় নাই। তবে উমরপুর বাজারে নিয়মিত পশুর হাট বসে না দাবী করে এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন,উমরপুর বাজার সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাট বাজার থাকলেও পশু বেচা-কিনা হয়নি। কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে উমরপুর বাজারে পশু ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ঈদের পর আর বাজারে পশু বিক্রি হয়নি। স্থায়ী পশুর হাট বাজার থাকলে নিয়মিত পশু বাজারে বিক্রি হয়না কেন? গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানীর পশুর দাম তুলনামূলক বেশী। পশুর বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বাজারে গড়ে উঠেছে জাল টাকার ব্যবসা। পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার এবং প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ। তবে হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জাল টাকা সনাক্তে সরকারিভাবে তেমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপারী ও ক্রেতা সাধারণের মাঝে দেখা গেছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠ।
উপজেলার গোয়ালাবাজারের গরু ব্যবসায়ী আমজাদ মিয়া জানান, এবার পশুর আমদানি যথেষ্ট থাকলেও এখনও তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। ক্রেতারা পশু দেখছেন এবং দরদাম করে ধারণা নিচ্ছেন। শহর এলাকার মানুষের পশু রাখার জায়গা না থাকায় তারা এখনো পশু কিনতে শুরু করেনি। গ্রাম এলাকার লোকজন আগেভাগেই কিনছেন তাদের পছন্দমতো কোরবানীর পশু।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুরসালিন বলেন, গরু ব্যবস্যায়ীদের কে বলা হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন হাট-বাজারগুলোতে বসানোর জন্য। উমরপুর বাজারে স্থায়ী হাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন এখানে স্থায়ী হাট হলে শুধুমাত্র কোরবানী ঈদ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় গরু-ছাগল বিক্রি হয় না বলে এলাকাবাসির কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন,স্থায়ী বাজারের তালিকায় থাকায় অস্থায়ী পশুর হাটের তালিকায় উমরপুর বাজার আসেনি। উপজেলায় যাহাতে কোন অবৈধ পশুর হাট বসাতে না পারে সে দিকে আমার সজাগ দৃষ্টি রাখছি।


