দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন : বিশ্বনাথে আ.লীগের ‘হ্যাঁ’, বিএনপির ‘না’
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ অক্টোবর ২০১৫ ইং, ১:০৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৩৩ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচন তথা ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিকে করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের এমন উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকেই বলছেন এতে হীত বিপরীত হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাই দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে উদ্যোগকে ‘হ্যাঁ’ বলছেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থকরা এমন উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ বলছেন।
দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনকে যারা স্বাগত জানাচ্ছেন, তারা বলছেন-এতে গণতন্ত্র বিকশিত হবে। গণতন্ত্রের চর্চা বাড়বে। তাছাড়া সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে গণতন্ত্রের প্রতি ধারক-বাহক হবে। ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য তা সুফল বয়ে আনবে।
তবে যেসব জনপ্রতিনিধি দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের বিপক্ষে বলছেন, তাদের দাবি-দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন সরকারের একটি কূটচাল। এর মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথ খুঁজছে। তারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান, তা স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া উচিত হবে না। এছাড়া দেশের রাজনীতির হানাহানি তখন স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়বে বলে তাদের মত।
তবে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করার পক্ষে-বিপক্ষে’র সবাই-ই বলছেন, দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন হলে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। কেননা স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমর্থকরা জোরেশোরেই তখন মাঠে নামবেন। আগে যেখানে দলমত নির্বিশেষে প্রার্থী দেখে মানুষ ভোট দিয়েছে, দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে তখন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের ভোট পাওয়া যাবে না। এজন্য নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীদের প্রচুর শ্রম দিতে হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলে গণতন্ত্রের চর্চা হবে, গণতন্ত্র বিকশিত হবে। তবে দলীয়ভাবে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদেরকেই মনোয়ন দিতে হবে। তাকে জয়লাভ করা সহজ হবে। সরকারের এ উদ্যোগে স্বাগত জানান।
উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আলী বলেন, ‘সরকারের এরকম সিদ্ধান্তকে ভালোই বলতে হবে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র চর্চায় অভ্যস্ত হবে। তাছাড়া আমরা যারা, তৃণমূলে কাজ করি, তাদের জন্য দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আনন্দের বিষয়। তবে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হলে বিপর্যয় ঘটবে।’
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিশ্বনাথ ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকার স্থানীয় পর্যায়েও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে। এজন্য তারা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা যাতে জোরপূর্বকভাবে জয় ছিনিয়ে নিতে পারে, এজন্যই স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত। বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতেই এমন আইন করা হয়েছে।’
বিএনপি সমর্থিত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল চৌধুরী বলেন, ‘এরকম সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। কেননা স্থানীয় পর্যায়ে মানুষ তাদেরকেই ভোট দেয়, যারা সবার সুখে-দুখে পাশে থাকে, খোঁজখবর নেয়। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে দেখা যাবে দল এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, মানুষের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এমতাবস্থায় অযোগ্যরা মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ মানুষ এতে বঞ্চিত হবে।’


