বিশ্বনাথে দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী “পলো বাওয়া” উৎসব পালিত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭৫১ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু ও নূর উদ্দিন:: সিলেটের বিশ্বনাথে দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের পশ্চিমের বিলে (দরং) আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার পালিত হল চিরায়ত বাংলার পুরানো ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া পলো বাওয়া উৎসব ১২টায় শেষ হয়। এবছরের বিলে তেমন মাছ না পাওয়ার কারনে পলো বাওয়াতে অংশগ্রহনকারি কয়েকজন ১-২টি করে মাছ ধরে আনন্দ-চিত্তে বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তবে পলো বাওয়া উৎসবের আনন্দটা যুবক-বৃদ্ধের চেয়ে ছোট ছোট শিশুদের মাঝেই একটু বেশি আনন্দের মনে হয়েছে। তারা তাদের বাবা-চাচা-দাদা-মামা-ভাইর হাত ধরে কইল নিয়ে এসেছে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পলো বাওয়া উৎসবে কোনো একজন একটি মাছ ধরার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্যরা আনন্দ মনে চিৎকার করে উঠেন। ছোট-বড় কোনো ভেদাভেদ না করে সবাই মিলে পূর্ব পুরুষদের মতো প্রায় দুই শত বছর ধরে এই পলো বাওয়া উৎসবে যোগ দেন গোয়াহরি গ্রামের শতশত মানুষ। তবে এই পলো বাওয়া দেখতে আশপাশের গ্রামের লোকজন সকাল থেকেই দল বেঁধে আসতে থাকেন গোয়াহরি বিলে।
জানাযায়, প্রায় দুইশত বছর ধরে গোয়াহরি গ্রামের পশ্চিমের বিলে পলো বাওয়া উৎসব পালন করে আসছেন এলাকাবাসি। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এলাকাবাসি একত্রিত হয়ে বিলে মাছ শিকার করেন। ঐতিহ্যবাহি এ পলো বাওয়া উৎসব দেখতে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা উৎসুক জনতা আসেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল বশর বলেন, ছোট বেলা অনেক দিন বিলে পলো বাওয়াতে অংশগ্রহন করেছি। কিন্তু র্দীঘদিন পর বিলে মাছ ধরতে এসে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
গোয়াহরি গ্রামের মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছর বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত হয়। আগের মতো বিলে তেমন মাছ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, এটি পুরনো ঐতিহ্য। প্রতিবছর উৎসবের মাধ্যমে পলো দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। এতে আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়।


