ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৪৫ মাস আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৬০৬ বার পঠিত
অসিত রঞ্জন দেব:: বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৪৫ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ রবিবার। কিন্তু আজোও তাঁর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাজধানী ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর বিশ্বস্থ গাড়ি চালক আনসার আলী। ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবীতে আজ রবিবার বাদ আসর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে দোয়ামাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁর কোন সন্ধান না পাওয়ায় ইলিয়াস আলীর নিজ জন্মভূমি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। তবুও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তার পরিবার, নিজ দলের নেতাকর্মীরা ও বিশ্বনাথের সর্বস্থরের মানুষ।
জানাযায়, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হবার পর ইলিয়াস আলীর পরিবারের ভর করে দীর্ঘশ্বাসের কালোমেঘ। এখনো থামেনি মায়ের চোখের জল। সন্তন হারা বৃদ্ধা মাকে সান্তনা দিতে প্রায় প্রতিদিন গ্রামের বাড়িতে দলের নেতাকর্মীরা ছুটে আসলেও এখন আর আগের মত তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেতাকর্মীদের নেই তেমন কোন আনাগোনা। নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আশস্কায় রয়েছেন তাঁর নিজ উপজেলা বিশ্বনাথের মানুষ।
সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক ইলিয়াস আলীর গর্ভধারিনী বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবি। তিনি পুত্র শোকে কাতর। অনেকটা শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি অপেক্ষার প্রহর গুণছেন পুত্রের জন্য। স্বামীর খোঁজে দিশেহারা ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা। পিতাকে ফিরে পাবার আশায় বুকে পাথর বেঁধে দিন যাপন করছে ইলিয়াসের পুত্র আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার ও মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল। পরিবারের একটাই দাবি তারা যে কোন মূল্যে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালক আনসার আলীকে অক্ষত এবং সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে ফিরে পেতে চান।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। পালিত হয় হরতাল, মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহসহ নানা কর্মসূচি। হরতাল পালনের সময় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জনতার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বিএনপির তিন কর্মী। আহত হয় শতাধিক। ঘটনার পর উপজেলার অজ্ঞাত পরিচয় আট হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। কারাবরণ করেন প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী। ইলিয়াস নিখোঁজের প্রতিবাদে ও তাঁর সন্ধানের দাবিতে সিলেট একসময় উত্তাল হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আন্দোলন থিতু হয়ে এসেছে। এখন উপাসনালয়ে প্রার্থনা ছাড়া এ ইস্যুতে বিএনপির কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ে না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর তাঁর মা সূর্যবান বিবি ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের বাড়িতে ঢল নামত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের। সময়ের ব্যবধানে সেই দৃশ্যও এখন বদলে গেছে। এখন আর কাতর মাকে সান্ত্বনা দিতে নেতা-কর্মীরা সেভাবে ওই বাড়িতে যায় না। ওই পরিবারের খোঁজখবরও আগের মতো নেয় না নেতা-কর্মীরা। তবে এখনো আশা ছাড়েনি ইলিয়াস পরিবার। ছেলে ফিরে আসবে-এ আশায় বুক বেঁধে আছেন মা। স্বামীকে ফিরে পাওয়া যাবে-এ আশায় দিন পার করছেন স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। আর বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে তিন সন্তান-সাইয়ারা নাওয়াল, আবরার ইলিয়াস ও লাবিব সারা।


