দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনতা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৯:৩০ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৮৬৮ বার পঠিত
নিউজ ডেস্ক:: দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুরে কথিত গুলি বর্ষণের ঘটনা নিয়ে এলাকার মুরব্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে এবং তদন্তপূর্বক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বৃহত্তর ধরাধরপুর, পুরান তেতলী ও কামুশনা গ্রামবাসী।
মঙ্গলবার সকালে ওই তিন গ্রামবাসী নিয়ে গঠিত অন্যায়-অবিচার ও দূনীনি প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক প্লে-কার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিল সহকারে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে তারা উলেখ করেন, ধরাধরপুর গ্রামে মেহের আহমদ উরফে জামাল গত ২০ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন। এর চারদিন পর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ও সমাজসেবী হারুনুর রশিদ, ব্যবসায়ী হোসেন মিনহাজ ও মাশুক মিয়ার নাম উলেখ করে অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি দিয়ে একটি মামলা (নম্বর ১৪/২০১৫) দায়ের করেন। কিন্তু দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আতাউর রহমান ঘটনাটি তদন্ত না করেই মামলাটি রেকর্ড করেন। এলাকার বিশিষ্ট, নিরীহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা দায়ের পরপরই লন্ডনে চলে যান বাদী।
স্মারকলিপি প্রদান উপলেক্ষে বৃহত্তর ধরাধরপুরবাসীসহ, পুরান তেতলী, কামুশনা, রিয়াছতপুর, মন্ডলপুর এলাকাবাসীর সর্বস্থরের মানুষ সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ধরাধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জামায়েত হন।
পরে সেখান থেকে সম্মিলিত ভাবে মিছিল সহকারে চন্ডিপুল বাইপাস সড়ক হয়ে হুমায়ুন চত্বর, মেন্দিবাগ, সোবহানীঘাট হয়ে পুলিশ কমিশনার অফিসের সামনে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল এসএমপি কমিশনার কামরুল আহসানের পক্ষে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম উক্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি প্রদানের আগে নগরীর নাইরপুল পয়েন্টে কমিটির আহবায়ক মো. সুরুক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্তে¡ ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল এবং সাবেক মেম্বার কামাল উদ্দিন রাসেলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্টিত হয় এক সংক্ষিপ্ত পথসভা।
পথসভায় বক্তরা বলেন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানান। পাশাপাশি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান, রেজওয়ান আহমদ চৌধুরী, সায়েম আহমদ, আব্দুস সালাম মর্তু, ডা. মিফতাহুল হোসেন সুইট, সুনাহর আলী, জয়নাল আহমদ, গোলাম মোস্তফা কামাল, মকবুল মিয়া, ওলিওর খান, আবুল বশর, আহমদ হোসেন রেজা, কুতুব উদ্দিন, হাবিব মিয়া, মানিক মিয়া, সাহাব উদ্দিন, মাজহারুল ইসলাম শাকিল, লায়েক আহমদ, আব্দুল মছব্বির, নিজাম উদ্দিন, মাসুক মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, মঞ্জুরুল ইসলাম, জমিরুল হোসেন টুনু, জামাল উদ্দিন, নিজাম খান, আফজল হোসেন মুন্না, আব্দুল হক, আকবর হোসেন মুক্তা, ফখরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, হোসেন মিনহাজ, হাসন মিয়া, মোস্তফা মিয়া, নেছার আহমদ, ইমরুল হোসেন, মনসুর আহমদ, কামরুল হোসেন, ছাবিব হাসান ছানিম বদরুল হোসেন প্রমূখ।
পরে কমিটির আহবায়ক সুরুক আহমদ চৌধুরী ও কামাল উদ্দিন রাসেলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনে বলেন, পুলিশ কমিশনারের সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।


