বিশ্বনাথে কনকনে শীত, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৮৩৯ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথে বুধবার ভোর বেলা থেকে হালকা বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। শিশু-কিশোর থেকে বয়স্ক সবাই টের পাচ্ছেন মাঘের হাড়কাঁপানো শীত। সারা দেশের ন্যায় কনকনে তীব্র শীতে এলাকার জন-জীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। হিমেল হাওয়া আর শীতের কারনে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা শীতে কাহিল। হতদরিদ্র মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল মানুষেরা জবুথবু হয়ে কোনো মতো শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শত চেষ্টা করছেন। শ্রমজীবি মানুষেরা কাজে বের হতে না পারায় তাদের পরিবার নিয়ে অভূক্ত থাকছেন। এরির্পোট বুধবার দুপুরে ১২টায় লেখা পর্যন্ত একটি বারও সূর্য্যরে দেখা মেলেনি।
এদিকে, হঠাৎ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে নবজাতক ও বয়স্কদের বেশি ভোগাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের সঙ্গে যথাসম্ভব ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মাঘের এই হাড় কাপানো শীতের কারণে বুধবার সকাল থেকে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেছেন না। ফলে ইরি ও বোরো ফসলের ভরা মৌসুমে কৃষকেরা ক্ষেতে কাজ করতে পারছেননা। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধ লোকজনের সর্দি, কার্শি, হাঁপানিসহ নানা রোগও উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে।
শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক, ছাদর, সোয়েটারসহ গরম কাপড়ের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা কাপড়ের দোকানে মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেলেও দাম বেশি হওয়ায় নিম্ম আয়ের মানুষজন তা কিনতে পারছেননা। উপজেলা সদরে অস্থায়ী পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বেড়ে গেছে। বিশ্বনাথে কোনো রাজনৈতিক দল এ পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়ানোর সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে হাতাগনা কয়েকটি সামাজিক সংগঠন এলাকার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করেছে। বুধবার ভোর বেলায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়তে থাকে। সেই সঙ্গে মেঘলা আকাশের প্রভাবে মৃদু বাতাস বইতে শুরু করে।
রিকশা চালক হারিছ আলী বলেন, সকালের বৃষ্টির কারণে রিকশা বের করতে পারিনি। বিকালে বের হব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু যে শীত পড়ছে, মানুষ তো রাস্তঘাটে বের হচ্ছে না। গরম কাপড়ের অভাবে আমি নিজেও বেশ অস্বস্তিতে আছি।
প্রবাসী অধ্যূষিত বিশ্বনাথে শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াতে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
বিশ্বনাথ ডিগ্রী কলেজ ছাত্র আবদুস সালেক বলেন, সকাল থেকে বাড়ি হতে বেরই হতে পারিনি। শীতটা আসলে খুব বেশিই অনুভূত হচ্ছে। হাড়কাঁপা শীত বলতে যা বোঝায় তা এবার পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় চিকিৎসক এম এ কুদ্দুছ চৌধুরী ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকম কে বলেন, শীতকালে নবজাতক ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া ও টনসিলের প্রভাব বেড়ে যায়। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও থাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এছাড়া ডায়রিয়া, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ শীতকালীন নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে গরম কাপড় পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও সমান সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।


