‘মা আমারে আর পাইতায় নায়’
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯৭৪ বার পঠিত
স্টাফ রিপোর্টার :: ‘মা আমারে আর-ই নাম্বারও পাইতায় নায়। নয়া মোবাইল ও সিম কিনলে, নতুন নাম্বার দিমুনে। হুজুররা মোবাইল অপারেশেন কইরা আমার মোবাইলটা নিছইগি (সিজ) করেছেন’। কথাগুলো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরস্থ জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসার ফজিলত ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান আহমদ (১৭)’র। দৃস্কৃতকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা হওয়ার কয়েক ঘন্টা পূর্বে (২৯ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা) নিহত সালমান তাঁর মা কুতুবি বেগমকে একথাগুলো বলে ছিল।
সালমানের মায়ের বরাত দিয়ে তাঁর মামা মাওলানা আতিকুর রহমান ও প্রতিবেশী নাজমুল ইসলাম বিশ্বনাথের স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, সালমান মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করার কারণে বাড়ির খবরা-খবর রাখার জন্য সে (সালমান) মোবাইল (০১৭৯০-০০৫৭৩১) ব্যবহার করে আসছিল।
ছেলে হত্যার বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সালমানের মা কুতুবি বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকমকে বলেন, আমার ছেলে আমাকে নতুন নাম্বার দেওয়ার কথা বললেও, আর নাম্বার দিতে পারে নি সে। সে চলে গেল না ফেরার দেশে। আর কোন দিনও তাঁকে (সালমান) দেখতে পারব না আমি, এমনকি কথাও বলতে পারব না।
এদিকে সালমান হত্যাকারীদের ফাঁসীর দাবিতে সিলেট ও বিশ্বনাথে পোস্টারিং করেছে ‘প্রতিবাদী সিলেটবাসী’। উপজেলার সর্বত্র জুড়ে ওই পোস্টারিং করার ফলে অনেকটাই নিস্তদ্ধ হয়ে যাওয়া প্রশাসনের হত্যার রহস্য উদঘাটন প্রক্রিয়া আবারও সক্রিয় হবে বলে ধারণা করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ। অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা নিহত সালমানের সহপাঠী ও প্রিন্সিপালের (শিব্বির) ছোট ভাই মহসিন উদ্দিন নাঈম কয়েকদিন পূর্বে জামিন পাওয়া নিয়ে এলাকায় চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা।
বিশ্বনাথ থানার এসআই সুমন সরকার বলেন, সালমান হত্যার আসল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষ হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্গত, সালমান আহমদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগাঁও গ্রামের বাকপ্রতিবন্দি ছোটন মিয়া ও কুতুবি বেগম দম্পত্তির সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সে মাদ্রাসার বোডিং-এ থেকে লেখাপড়া করে আসছিল। ৩০ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার নতুন বাজার এলাকার তফজ্জুল আলী কমপ্লেক্স বাসার মধ্যবর্তী সড়কে সালমান আহমদের লাশ পাওয়া যায়। এর পরদিন ৩১ ডিসেম্বর সালমানের মা কুতুবি বেগম বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০ (তাং ৩১/১২/২০১৫ইং)। মামলার লিখিত অভিযোগে বাদিনী উল্লেখ করেছেন যে তিনি ধারণা করছেন, মরহুম মাওলানা আশরাফ আলীর পুত্র ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদের ছোট ভাই মহসিন উদ্দিন নাঈন অজ্ঞাতনামা দৃস্কৃতকারীদের যোগসাজশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর (বাদিনী) পুত্র সালমানকে হত্যা করেছে।


