গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বনাথে স্বামী-শ্বশুর-শ্বাশুড়ি-দেবর ননদকে আসামি করে মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৩৮ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথে ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধু হেপি বেগমকে হত্যা করার অভিযোগে থানায় নিহতের মা ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২২। মামলার আসামিরা হলেন-হেপির স্বামী আবদুল ওয়াদুদ বুলবুল (৩৫), শ্বশুর আলখাছ আলী (৫৮), শ্বাশুড়ি সাফিয়া বেগম (৫৬), দেবর আজাদ মিয়া (৩২), মতিন মিয়া (২২), ননদ সুমা বেগম (১৮), রোকিয়া বেগম (৪০)।
এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় হেপি বেগম হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন হেপির শ্বশুর আলখাছ আলী ও শ্বাশুড়ি সাফিয়া বেগম। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার পূর্ব চানসির কাপন গ্রামের আলখাছ আলীর ছেলে বুলবুলের সঙ্গে উপজেলার আজিজনগর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর মেয়ে হেপি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের সংসার ভালভাবে চলে। বর্তমানে হেপি বেগম ছয় মাসের অন্ত:সত্ত্বা। গত ৫ মাস পূর্বে আসামিরা যৌতুক হিসেবে হেপি বেগমের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে এবং তার স্বর্ণালংকার বিক্রয় করার চেষ্টা করে। এতে সে প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে নির্যাতন করে। খবর পেয়ে হেপির পিতা-মাতা ও আত্বীয় স্বজন তার স্বামীর বাড়ি এসে স্থানীয়ভাবে বিচার প্রার্থী হন। পরে হেপি বেগমকে তার পিতা-মাতা স্বামী বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর প্রায় ১৫দিন পর হেপি বেগমের পিত্রালয়ে আসামি আলখাছ আলীসহ এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যান। এসময় হেপিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হবে না বলে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করে পিত্রালয় থেকে ফের হেপিকে স্বামীর বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর প্রায় এক মাস পর আসামি রোকেয়া বেগমের কু-পরামর্শে পুনরায় এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে হেপির কাছে এবং তাকে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু হেপি বেগম গর্ভের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসার করতে থাকে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১টায় আসামিরা হেপির কাছে যৌতুক হিসেবে ফের লাখ টাকা দাবি ও তাকে মারধর করে। বিষয়টি হেপি বেগম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পিত্রালয়ে জানায়। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হেপি বেগম তার মাকে জানায়। খবর পেয়েই তার পিতা-মাতা ছুটে আসেন। এসময় তারা হেপিকে তাদের সঙ্গে নিতে চাইলে আসামিরা তাদের তাড়িয়ে দেয়।
পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার ভোর ৬টায় হেপি বেগম তার স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে পিত্রালয়ে ফোন করে জানায় এই মুহুর্তে যৌতুকের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এ কথা বলে সে ফোন কেটে দেয়। ওইদিন সকাল প্রায় ৭টায় আসামি আবদুল ওয়াদুদ বুলবুল মোবাইল ফোনে তার শ্বাশুরিকে জানায় হেপি বেগম মারা গেছে। এ কথা বলে সে ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে হেপির পিতা-মাতা ও আত্বীয় স্বজনরা তার স্বামী বাড়িতে ছুটে আসেন। এসময় তারা হেপির স্বামীর ঘরের সংলগ্ন জাম্বুরা গাছের ডালের সঙ্গে কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। তবে এসময় হেপির স্বামীসহ পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে থানা পুলিশ হেপির লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। যৌতুকের দাবিতে অত্যন্ত সু-কৌশলে হেপি বেগমকে তার স্বামীর বসতঘরে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আসামিরা তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলাইয়া রেখে তারা পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, মামলার দুই আসামিকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


