বিশ্বনাথে টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে বোরো ধান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত
শিপন আহমদ:: বিশ্বনাথে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওড় থাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপজেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের সুরমা পাড়ে অবস্থিত মাহতাবপুর, মাধবপুর, শাহপুর, খূজার পাড়া, পূর্ব সোনাপুর, মির্জারগাও ও সাহেব নগর গ্রামের নিম্নাঞ্চলের তলিয়ে যেতে পারে। বাড়ি ঘরে এখনো পানি ওঠেনি। তবে অনেক কৃষকের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর নিদের্শে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হচ্ছে। অবস্থার অবনতি ঘটলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। এছাড়াও লামাকাজী সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড় ভাঙছে।
জানাগেছে, বিশ্বনাথে গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন হাওর প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আধা-পাঁকা রাস্তা, পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে যদি আরোও কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বন্যার আশংক করেছেন উপজেলাবাসী। টানা বর্ষণের ফলে পুরো উপজেলার জন জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দূভোগে এবং দিনমজুরি অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এখনও উপজেলায় কোথাও প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার লামাকাজি, খাজাঞ্চী ও দেওকলস ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল রাস্তা পানির নিচের তলিয়ে আশংকা রয়েছে বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান। বৃষ্টির কারণে লোকজন বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা। উপজেলা সদরের গত দুইদিন ধরে লোকজনের উপস্থিতিও অন্যান্যা দিনের চেয়ে অনেক কম। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এলাকার নিম্মাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন দুঃচিন্তায়। উপজেলা সদরের বাসিয়া নদী, সুরমা নদীসহ পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী ও ছড়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ পৌর এলাকার কারিকোনা গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া, শানুর আলী, জুনাব আলী বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের বোরো ধানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান বলেন, উপজেলার সব চেয়ে বড় হাওড় চাউলধনী। এ হাওড়টি দৌলতপুর ইউনিয়ন অবস্থিত। টানা বর্ষণের ফলে বেশিরভাগ ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। আমাদের এমপি মহোদয় প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসমু রুবি বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি নজরদারী করা হচ্ছে ও বর্তমান পরিস্থিতি অবনতি হলে মানুষকে সাহায্য করার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমপি মহোদয় এলাকায় পানি বৃদ্ধি ও সার্বিক বিষয়ে প্রতিদিন খোজখবর নিচ্ছেন।
স্থানীয় এমপি তাহসিনা রুশদীর বলেন, সংসদ অধিবেশন থাকায় এলাকায় আসা হচ্ছেনা। তবে প্রতিনিয়ত এলাকার পানি বৃদ্ধিসহ সার্বিক বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের মাধ্যমে খোজখবর নিচ্ছি।


