বিশ্বনাথে ৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ২১ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথে সরকারি জায়গায় ৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। (২৯ এপ্রিল) বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর এলাকার হাবড়া বাজারের প্রধান সড়ক ও বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এতে সাবেক কাউন্সিলর বারাম উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ও দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায, গত কয়েক বছর ধরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে আধাপাকা ও কাঁচা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এসব স্থাপনা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের ‘দখল বাণিজ্য’ চালিয়ে আসছিলেন সাবেক কাউন্সিলর বারাম উদ্দিন অভিযোগ ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্রন সৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লুৎফুর রহমান। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং উদ্ধারকারী দল উপস্থিত ছিল।
দীর্ঘদিন পর এমন সাহসী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনাথের সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। তারা জানান, এই উচ্ছেদের ফলে যানজট কমবে এবং বাজারের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
প্রশাসনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে দোকান মালিক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বারাম উদ্দিন টাকার বিনিময়ে এসকল স্থাপনা তৈরির অনুমতি দিয়েছেন।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উৎসুক জনতা বলেন, ওই অবৈধ স্থাপনা টাকার বিনিময়ে গড়ে উঠার সাথে বারাম উদ্দিনের প্রকাশ করা হয় কিংবা আমি বলেছি জানতে পারে, তাহলে আপনারা চলে যাওয়ার একটু পরেই সে (বারাম) এসে গালমন্দ শুরু করবে।
এসময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়া ছয়টি দোকানের মধ্যে ‘চরচন্ডি নদী’র চরে গড়ে উঠা একটি স্থাপনা বা দোকান মালিক পৌর এলাকার ছত্রিশ গ্রামের আব্বাছ আলী বলেন, চরচন্ডি গ্রামের আবদুল আজিজের কাছ থেকে আমি (আব্বাস) ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দোকানটি ক্রয় করেছি। চরচন্ডি নদীর তীরে অসংখ্য স্থায়ী স্থাপনা থাকলেও আজ (বুধবার) শুধুমাত্র আমার দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর বাকিগুলো বহাল রয়েছে। এটি গরীবের পেটে লাথি মারা ছাড়া আর কিছুই নয়।
দখল বাণিজ্যের বিষয়ে জানার জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে স্থানীয় হাবড়া বাজারে সাবেক কাউন্সিলর বারাম উদ্দিন’কে খোঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোন্ োবক্তব্যে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বনাথ পৌরসভার হাবড়া বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, সরকারি ভূমি ও নদীর চরে গড়ে ওঠা ৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে আমরা অভিযোগ পেয়েছি একজন ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ওই অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় সহযোগীতা করেছেন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জনগণের চলাচলের পথ সুগম করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। দখলদার যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে বিশ্বনাথের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।


