বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে ১৪টি বিদ্যালয়ে ঝুঁলছে তালা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ৩:০৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৭২ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জের ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউকে কিছু না জানিয়ে গত চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিক বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষককে পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব জন্য না দিলেও উৎসুক আদায়ের মাধ্যমে উপজেলার ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত সকল শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব পালন করতে দিয়েছেন। ফলে দুই উপজেলার হাড়িয়ারগাঁও, নলজুর, গৌরীপুর, শ্রীনাথপুর, নতুন সুনামপুর, কৃর্ত জালালপুর, খালপার, ছমিরুন নেচ্ছা, ভাড়েরা, ইব্রাহিমপুর, আলীপুর, শাহাজালাল, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত রবিবার থেকে ঝুঁলছে তালা।
বিদ্যালয়গুলোর বন্ধের ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও কোন কাজ হচ্ছে না বলে জানান অভিভাবকরা। তবে সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করে জানান,পরীক্ষার অযুহাতে বিদ্যালয় বন্ধ না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়ার পরও যদি কোন বিদ্যালয় বন্ধ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষকরা জানান, শিক্ষাকর্তা কামরুজ্জামান উপজেলায় যোগদানের পর থেকে সরকারী বরাদ্ধের ভ্যাট ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্য আসা বরাদ্ধের টাকা আতœসাৎসহ নানা অনিয়মের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলায় ৭০৬ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। চলতি সমাপতি পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনানুযায়ী ২৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সম্মনয় করে ২৭৪ শিক্ষক কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে একাধিক বিদ্যালয় থেকে সকল শিক্ষকদের পরীক্ষা কেন্দ্রে দ্বায়িত্ব পালনের জন্য দেয়ায় ১৪টি বিদ্যালয়ে চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ওসমানীনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও ওই শিক্ষা কর্মকর্তা মনগড়াভাবে দুই উপজেলার কার্যক্রম করছেন।
মিনা বেগম দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমার মাদরাসায় যে শিক্ষকের নাম পরিদর্শক তালিকায় দেয়া হয়েছে এ নামে আমার এখানে কোন শিক্ষক নেই। এছাড়া ব্রাম্মনগ্রাম মাদ্রাসার এক শিক্ষক দুই বছর পূর্বে মাদ্রাসা থেকে চাকুরী ছেড়ে চলে গেলেও ওই শিক্ষকের নাম এবারের সমাপনি পরিক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শকের তালিকায় দেয়া হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বিদ্যালয় গুলো বন্ধ থাকার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিদ্যালয় বন্ধ না রাখার নির্দেশনা তালিকা করার পরে পেয়েছি। তাই বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে আর এমন হবে না।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী জানান,পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিধান নেই। বালাগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তা মনগড়াভাবে দুই উপজেলার পরীক্ষা সক্রান্ত কার্যক্রম করতে গিয়ে গাভলাতি ও দায়িত্বহীনতার জন্য প্রবেশ পত্রে ভুল সহ বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। তদন্তক্রমে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক তাহমিনা খাতুন বলেন,পরীক্ষার অযুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলেও খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্বে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


