বালাগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষনের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৯:২৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭৬৩ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর :: সিলেটের বালাগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষনের শিক্ষক পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দাখিল করেছেন ওসমানীনগর উপজেলার রংবরন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুমা রানী দে ও তার নিকট আত্বীয় উপজেলা বিআরডিবি (প্রজিফ) এর সভাপতি শিশির কান্ত দেব। সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম জানান, প্রশিক্ষনে পাঠানোর নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার টাকা আদায় এটা বেআইনি। তদন্তপূর্বক ঐ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের শিক্ষাবর্ষে ডিপিএড প্রশিক্ষনে যাওয়ার জন্য ইচ্ছুক শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় আদায় করে নিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এছাড়াও একাধিক শিক্ষকদের অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রশিক্ষনে পাঠানোর নামে টাকা আদায় করলেও দাবিকৃত সম্পূর্ন টাকা না পাওয়ায় প্রশিক্ষনে যাওয়ার অনুমতি দেননি ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।
অভিযোগকারী শিশির কান্ত দেব জানান, আমার নিকটাত্মীয় ওসমানীনগরের রংবরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি আমার একান্ত নিকটআত্বীয় শিক্ষিকা সুমা রানী দেব ডিপিএড প্রশিক্ষনে যাওয়ার জন্য আবেদন করলে শিক্ষা কর্মকর্তা নানা অযুহাত দেখান। আমি শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সাথে সুমা রানীকে প্রশিক্ষনে যাওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, সভাপতি সাহেব আপনি বিজ্ঞ লোক প্রশাসনিক কাজকর্মের হিসাবতো আপনি বুঝেন। আপনার আত্বীয় ওই শিক্ষিকা প্রশিক্ষনে যেতে হলেও উধ্ধর্তন কর্মকর্তাদের খরচ বাবত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। শিক্ষা কর্মকর্তার এমন দাবীর শর্তে আমি অপারগতা প্রকাশ করিলে, তিনি টাকা না দিলে কোন কিছুই হবে না বলে জানান। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ৬ ডিসেম্বর শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে অনেক আকুতি মিনতি করে ৫ হাজার টাকা প্রদান করি। প্রশিক্ষণে দেওয়ার তালিকা প্রদানের পর আরোও ৫ হাজার টাকা দিব বলে অনুরোধ করিলে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন আপনি প্রজিফের সভাপতি বিধায় ৫ হাজার টাকা বাকীতে কাজটা নিয়ে নিলাম। আপনি আগামী ০৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি টাকাগুলো দিয়ে দিবেন। পরবর্তীতে ১০ ডিসেম্বর প্রশিক্ষনে পাঠানো চিটি আনার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে গেলে শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে জানান আপনার এটা হয়নি। এই সেশনের পরবর্তী তালিকায় দিয়ে দিব। শিক্ষা কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর বিকালে অফিসে গিয়ে উনার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা হয়নি, আগামী বছর হয়ে যাবে। এসময় শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেয়া টাকাগুলো ফেরৎ চাইলে তিনি বলেন, এসবের আর দরকার কি আগামী বছর করে দিব বলে তড়িগড়ি করে নিজ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। শিক্ষা কর্মকর্তা বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা উনার কক্ষে ঢুকে আমাকে বসা অবস্থায় দেখে কেন বসে আছি তাঁর কারন জানতে চান। উনাকে আমি প্রথমে বিষয়টি বলতে না চাইলেও এক পর্যায়ে ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বলতে বাধ্য করেন। কিন্তু বিষয়টি শুনার পর ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রাগান্তিত হয়ে বলেন, আরে এর জন্য বসে আছেন, সবকিছু কি ফেরৎ পাওয়া যায়, যান চলে যান, স্যার আসবেন না। এ সময় আমি অফিস কক্ষ থেকে বের হতে না চাইলে ওই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে রাগান্বিত হয়ে অশ্লালিন আচরণ করে বলেন আপনি না যেতে চাইলে আমি আপনাকে বের করে দিতে বাধ্য হবো। এটা স্যারের নির্দেশ। এ সময় আমার মানসম্মানের কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিক বিষয়গুলি আমি অফিসে অন্য কাজে আসা ব্যক্তিদ্বয়কে অবগত করে শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি।
শিক্ষিকা সুমা রানী দেব বলেন, প্রশিক্ষনে যাওয়ার জন্য আবেদন করার পর অফিস কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা শুরু করায় বিষয়টি নিয়ে আমি আমার আত্বীয় শিশির কান্ত দেব এর শরনাপূর্ন হই। শিশির কান্ত দেব শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী ৫ হাজার টাকাও দেন। আমি প্রশিক্ষনে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করার পরও আমাকে প্রশিক্ষনে যাওয়ার অনুমতি দেননি শিক্ষা কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে আমি চরম হতাশায় ভুগছি।
নাম প্রকাশে না করার শর্তে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের একাধিক শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যোগদানের পর থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিস দূনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া ওই শিক্ষা কর্মকর্তা কোন ফাইলে স্বাক্ষর করছেন না। ২০১৬ সালে ডিপিএড প্রশিক্ষণে যাওয়ার জন্য শিক্ষকরা আবেদন করলে তিনি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ছাড়া কোন শিক্ষকেই প্রশিক্ষনে যাওয়ার সুযোগ দেননি। অনেকই আবার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। শিক্ষকের বদলী সংক্রান্ত বিষয়েও ইতিমধ্যে তিনি একাধিক শিক্ষক ও তাদের অভিবাবকদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা আদায় করে নিয়েছেন। ফলে গোটা শিক্ষক সমাজে শিক্ষা কর্মকর্তার এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলেন “এটা পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়”আমার স্বাক্ষী রয়েছে। তদন্তে আসলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আমার স্বাক্ষী উপস্থাপন করব।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শওকত আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যদিও ঘটনাটি ওসমানীনগর উপজেলা সংশ্লিষ্ট কিন্তু অভিযুক্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তা বালাগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকায় অভিযোগটির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবরে অভিযোগটি প্রেরন করা হয়েছে।


