বিশ্বনাথে আইনশৃঙখলার অবনতি, জনমনে আতঙ্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৬৬১ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথে গুপ্তহত্যা, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি দিনদিন বেড়েই চলেছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে তিনটি গুপ্তহত্যা,তিনটি ডাকাতি,একাধিক গরু চুরি ও একটি ছিনতাইর ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে চারদিনের মধ্যে তিনটি ডাকাতি হয়। ঘন ঘন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই’র ঘটনার ফলে এলাকার জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে গুপ্তকান্ডের কোনো রহস্য এখনও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে শিগগিরই এসব ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। এরজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
জানাগেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল উপজেলা সদরের নতুনবাজারস্থ একটি বাসার সামন থেকে মাদরাসা ছাত্র সালমাল আহমদের (১৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে উপজেলার সদরের নতুনবাজারস্থ জামিয়া ইসলামী দারুল উলূম মাদাদিয়া মাদরাসার ফজিলত ১ম বর্ষের ছাত্র। সে সিলেটের গোলাপঞ্জ থানার বাঘা ইউনিয়নের পূর্বগাঁও গ্রামের ছোটন মিয়ার পুত্র।
গত ৩ জানুয়ারী উপজেলার রহমাননগর গ্রাম থেকে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহিলার নাম আমিনা বেগম (২০)। তিনি রহমাননগর গ্রামের রফিক আলীর স্ত্রী।
গত ৪ জানুয়ারী সোমবার নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিনপর সালমান নামের ৬ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার সিঙ্গেরকাছে বাজারের আশিক মিয়ার কলোনীতে বসবাসকারী টেলাগাড়ি চালক মনা মিয়ার ছেলে। পৃথক তিনটি গুপ্তকান্ডের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি রোববার দিবাগত রাতে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের লালারগাঁও (কলা বাড়ি) গ্রামের প্রবাসী মফিজ আলীর বাড়িতে ডাকাতদল হানা দেয়। এসময় ডাকাতদল তার ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।
গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দেওকলস ইউনিয়ন আ’লীগ সহ-সভাপতি কজাকাবাদ গ্রামের মাষ্টার আলী আফসর চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতদল হানা দিয়ে তার ঘওে থাকা নগদ টাকা স্বর্নালংকারসহ প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামার লুট কওে নিয়ে যায়।
গত সোমবার রাতে উপজেলার রামকৃঞ্চপুর গ্রামের ফয়জুর রহমানের বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। এর পূর্বে এলাকার বেশ কয়েকজনের গরু চুরি সংগঠিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নরে ছনখাড়ি গাঁওয়ের ফয়জুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতদল হানা তার ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
সর্ব শেষ গত বৃহস্পতিবার উপজেলার দৌলতপুর ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমদেও বাড়িতে ডাকাতি সংগঠিত হয়। ডাকাতদল তার ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই রাতেই উপজেলার দূর্যাকাপন এলাকায় চালক বেধে অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
এব্যাপারে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ছয়ফুল হক, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন’র সাধারণ সম্পাদক মধু মিয়া বলেন, ঘনঘন চুরি-ডাকাতি, খুনের ঘটনায় উপজেলার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। অপরাধ নির্মূলে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে চুরি-ডাকাতি ব্যাপক হারে বাড়ার আশংকা রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্যে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবিও জানিছেন তারা।
থানার নবাগত ওসি আবদুর হাই বলেন, এসব ঘটনার নেপথ্যে অনেক কাহিনী রয়েছে। এ পর্যন্ত যে-ক’টা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এর কোনো ঘটনায়ই মামলা দেয়া হয়নি। মামলা দেয়া না হলে অপরাধীদের গ্রেফতারে তাৎক্ষনিক কোনো পদক্ষেপও নেয়া যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙখলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সে জন্যে উপজেলার সুশিল সমাজ ও সচেতন মহলের সহযোগীতাও কামনা করেন। এলাকায় পুলিশের টহল জোরধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


