বালাগঞ্জে প্রার্থীদের টার্গেট এখন দলীয় প্রতীক
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ৪:৪১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬১৬ বার পঠিত
শামীম আহমদ,বালাগঞ্জ:: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এখন ‘দলীয় প্রতীক’ কেড়ে আনার টার্গেট নিয়েছেন। সিলেটের বালগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী আগাম প্রচারণায় নেমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই দলীয় মনোনয়ন পেতে তারা নিজ দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকেই দলীয় প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আবার অনেকে দল থেকে মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এই ইউনিয়নকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বেশি করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অন্য ইউনিয়নগুলোতেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ন্যায় আগাম প্রচরণায় নেমেছেন প্রায় ২ শতাধিক সাধারণ সদস্য প্রার্থী। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশপাশি এ তালিকায় রয়েছেন ছাত্র নেতাসহ একাধিক নতুন মুখ। প্রচার-প্রচারণায় নতুন প্রার্থীদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। বর্তমান চেয়ারম্যানরাও নিজেদের স্বপদে বহাল রাখার জন্য ভোটারদের ভাগে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে বিগত ৫ বছরের সফলতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ মতিন, গতবারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুনেদ মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি কবি তুহিন মনসুর, আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউপি সদস্য আশিক মিয়াও নাগরিক ফোরামের সমর্থন নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী শাহ মো. জুনাব আলী। বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য শেখ জামাল আহমদ খলকু ও তরুণ প্রজন্মের সমর্থন দাবিদার সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা রোটারিয়ান আবদুল মুনিম, উপজেলা জাপার আহ্বায়ক মুক্তার মিয়া ও ছাত্রদলের সাবুল আহমদ।
আবদুল মুনিম দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখন চারদিকে তরুণ প্রজন্মের জয়-জয়কার, আর তরুণরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, তারা আমার জন্য কাজ করছেন’।
নাগরিক ফোরামের ব্যানারে সতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ মো. জুনাব আলী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে আসছি। এ জন্য দলীয় মনোনয়নের চাইতে সাধারণ মানুষের সমর্থনকেই আমি বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি’।
বোয়ালজুড় ইউনিয়নে টানা দু’বারের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আনহার মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাজী আবদুল নুর ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ আলা উদ্দিন রিপন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সান উল্লা ও ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম জিতু। পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমদ ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আজমল বেগ। পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রব কাওছার, আওয়ামীগ নেতা নাসির উদ্দিন, আমির হোসেন নুরু ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম মধু। দেওয়ান বাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নাজমুল আলম নজম, বিএনপি নেতা সুরুজ আলী, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুয়েল আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা হুমাযুন রশিদ চৌধুরীসহ সর্বাধিক ভোটারের এই ইউনিয়নে প্রায় দেড় ডজন প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে, গত নির্বাচনে যেখানে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।


