বিশ্বনাথে পোকা দমনে পাচিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ৪:০১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৮৯ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: বোরো খেতের পোকামাকড় দমনে ক্রমেই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাচিং পদ্ধতি। এতে পোকামাকড় দমনে তাদের জমিতে আর কীটনাশক দিতে হচ্ছে না। এ কারণে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশও।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার ধীতপুর, লামাকাজি, ভোগশাইল, সরুয়ালা, পশ্চিম শ্বাসরাম, পূর্ব শ্বাসরাম, ইলামেরগাঁও, আতাপুর, রহিমপুর, কারিকোনা, ভাটশালা, সাধুগ্রাম, তাতিকোনা, ধর্মদাসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে কৃষকরা পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতিতে বোরো খেতে শুধু ডাল পুঁতে রাখা হয়। এসব ডালে পাখি বসে পোকামাকড় ধরে খায়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৭হাজার হেক্টর বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৩শ ৬০ হেক্টর, উফসী ৬ হাজার ৩শ ৪০ হেক্টর ও স্থানীয় বোরো চাষ হবে ৩শ হেক্টর।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মনুজ কান্তি বলেন, ধইঞ্চা গাছ লাগানোর পদ্ধতিকে লাইভ পাচিং ও ডাল পুঁতে রাখার পদ্ধতিকে ডেড পাচিং বলা হয়। উপজেলায় ডেড পাচিং পদ্ধতি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতি কৃষি বিভাগের পরামর্শে গত তিন বছর ধরে কৃষকরা প্রয়োগ করছেন।
তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি পোকা থেকে বাচতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবস্থা করার। তবে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২৪জন কৃষি অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছেন ৮জন কৃষি অফিসার। যার ফলে কৃষি সেবা দিতে অফিসারদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপজেলার কারিকোনা গ্রামের কৃষক ওয়াহাব আলী বলেন, পাচিং পদ্ধতি এলাকার অনেক কৃষক প্রয়োগ করছেন। এ পদ্ধতি গ্রহন করায় বোরো চাষে আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। ডালে বসে পাখিরা সব পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। এতে তেমন কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী নূর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।


