বার বছর ধরে লতা-পাতা খেয়েই বেঁচে আছেন বাহা উদ্দিন
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৫১ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: নাম তার বাহা উদ্দিন, বয়স প্রায় সত্তরের কৌটায়। স্বাভাবিক লোকজনের চাইতে সম্পুর্ন ব্যতিক্রম এই পৌঢ়ের জীবন ধারন, খাবার-দাবার এবং চলাফেরায় রয়েছে ভিন্নতা। ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন এলাকায়। খাবার বলতে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ শুধুমাত্র ঔষধী লতা-পাতা আর বিভিন্ন জাতের ফুল খেয়েই বেঁচে আছেন তিনি। বলতে গেলে পান খাওয়ায় অভ্যস্থ লোকজনের মতই এগুলো চিবিয়ে খান। সম্প্রতি সিলেটের বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে তাজপুর কদমতলাস্থ রাজভোগ মিষ্টি ঘরের সত্তাধিকারী সুরঞ্জিত কর নামে এক ব্যক্তির তত্তাবধানে রয়েছেন তিনি। এই সুবাদে বুধবার সকালের দিকে কথা হয় এই আশ্চর্য মানবের সাথে। আলাপকালে জানালেন, তার বাড়ী কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বিচাপিতলা গ্রামে। পিতার নাম মুন্সি মেহের আলী। যুবক বয়সে চট্রগ্রামের ফটিক ছড়ির গাউছে পাক মুহিন উদ্দিন আউলিয়ার কাছ থেকে শিষ্যত্ব অর্জন করেন। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ভাতের পরিবর্তে গাছ-গাছড়া, লতা-পাতা আর ফুল খেতে অভ্যস্থ হযে যান। তবে বর্তমানে একটানা বার বছর যাবৎ তিনি গৃহত্যাগী রয়েছেন। এই বার বছরের মধ্যে শেষ দুই বছর ধরে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালা বাজার, ব্রাক্ষন গ্রাম ও তাজপুর এলাকায় বসবাস করছেন। বার বছরের মধ্যে আহার বলতে শুধমাত্র লতা-পাতা আর ফুল খেয়েই জীবন ধারন করে আসছেন। খ্যাতনামা পীর আউলিয়াদের মাঝার সহ তার ইচ্ছে অনুযায়ী বিভিন্ন লোকজনের বাড়ীতেও থাকেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক বাহা উদ্দিন পাগলার মাথার চুলে দেড় হাত লম্বা ঝঁটা বেধেছে। জানালেন, স্ত্রীর নাম-খাদেজা বেগম, বড় ছেলের নাম-আলী আজ্জম, ছোট ছেলে-আলীদ হোসেন ও একমাত্র মেয়ের নাম-পুষ্প আক্তার। তারা বাড়ীতেই বসবাস করছেন। সমাজ এবং মানুষ সম্পর্কে জানার জন্যই তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে যোগ করেন তিনি। অনেকটাই হাড্ডিসার নির্লোভ-নির্মোহ এই ব্যক্তি মাঘের প্রচন্ড শীতের মধ্যে একটি মাত্র পাতলা গামছা গায়ে দিয়েই বসে আছেন। এর ব্যতিত বাড়তী কোন কাপড় পরেননা। কেউ টাকা-পয়সা দিলে নিতে চান না। আর জোর করে দিলেও তা লোকজনের মধ্যে বিলিয়ে দেন। লেখাপড়া না জানা বাহা উদ্দিন বলেন, যুব সমাজ যেন কোন ধরনের নেশায় আসক্ত না হয়ে ভালভাবে লেখাপড়া করে দেশ গড়ার কাজে নিয়েজিত হয়। মানব সেবাই ধর্ম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৃষ্টির সব মানুষের ভালভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। সিলেট জেলা মটর সাইকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাজপুর কদম তলার ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান সাদেক বলেন, বাহা উদ্দিন নামের ঔ সাধক লোকটিকে বেশ কিছু দিন যাবৎ এই এলাকায় দেখে আসছি। লোকজন তার কাছে গেলে তিনি সৃষ্টি, শ্রষ্টা আর আধ্যাত্বিক বিষয়ে কথা বার্তা বলেন। ব্যবসায়ী সুরঞ্জিত কর বলেন, তিনি লতা-পাতা আর ফুল ব্যতিত অন্য কিছু খান না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে তিনি এগুলো তুলে আনেন। তাছাড়া কে কোন স্বভাবের মানুষ তা তিনি মুখ দেখেই বুঝতে পারেন এ জন্য নেশাখোর প্রতারক কোন লোককে তিনি পছন্দ করেন না।


