বিশ্বনাথে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইং, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ১৬৪১ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা হেপি বেগম (২২) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার পূর্ব চানশির কাপন গ্রামের বুলবুল আহমদের স্ত্রী। শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার পূর্ব চানশির কাপন গ্রামের বুলবুল আহমদের বসত ঘরের পূর্বে একটি গাছে সঙ্গে কাপড় পেছানো অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। শনিবার ভোর বেলায় কোনো এক সময় তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্বহত্যা না হত্যা এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পিত্রালয়ের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব চানশিরকাপন গ্রামের আলখাছ আলীর ছেলে বুলবুল আহমদের সঙ্গে প্রায় ১৪ মাস পূর্বে একই উপজেলার আজিজনগর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া হত। ইতিমধ্যে এলাকার কয়েকজন এনিয়ে কয়েকবার শালিস বৈঠক করেন। কিন্তু শনিবার সকালে হেপির ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে সকালে নিহতের লাশ একনজর দেখার জন্য এলাকার নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে ভীড় করতে দেখা যায়।
এব্যাপারে নিহতের পিতা ওয়ারিছ আলী ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকম কে বলেন, মেয়ের বিয়ের পর থেকে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। গতকাল শুক্রবার তার মেয়ে হেপি কে স্বামীর বাড়ির লোকজন মারধর করে। খবর পেয়ে তিনি মেয়ের স্বামী বাড়ি ছুটে এসে বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন অবহিত করে চলে যান। শনিবার ভোর বেলায় জানতে পারি মেয়ে মারা গেছে।
তিনি বলেন, তার মেয়ে আত্ব হত্যা করেনি,তাকে হত্যা করে গাছে সঙ্গে তার মৃতদেহ রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে তার মেয়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে তিনি জানান।
তবে নিহেরত স্বামীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য রহমত আলী বলেন, শনিবার ভোর বেলা বুলবুল আহমদ তার স্ত্রী আত্বহত্যা করেছে বলে জানায়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
থানার এস আই হাবিব বলেন, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করি। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরের কোনো আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তবে পোষ্টমোর্ডাম রির্পোট আসার পর বলা যাবেে এটা আত্বহত্যা না হত্যা।


