বিশ্বনাথে মজার মানুষ মতন চাচা আর নেই : জানাজার নামাজ সম্পন্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মার্চ ২০১৬ ইং, ৭:২৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪৭৮ বার পঠিত
রফিকুল ইসলাম জুবায়ের : বিশ্বনাথের এক মজার মানুষ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের কারিকোনা গ্রামের বাসিন্দা মতছির আলী উরফে মতন মিয়া (৬১) আর নেই । ইন্নালিল্লাহি — — রাজেউন । বিশ্বনাথের সবার কাছে মতন চাচা হিসেবে পরিচিত এলাকার এই পরিচিত মুখ আজ বুধবার ফজরের নামাজের প্রস্তুতিতে কালে তার দৈনন্দিন জীবনের অতি প্রিয় স্থান কারিকোনা মসজিদেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী , ১ পুত্র ও ৪ কন্যা রেখে গেছেন । আজ বিকেল ৫টায় কারিকোনা বায়তুল মামুর মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।
জানা গেছে আজ বুধবার ভোরে প্রতিদিনকার চেয়ে অনেকটা পূর্বে আসেন মসজিদের মোয়াজ্জিন ছুটিতে থাকায় । আর কজন মুসল্লীর সাথে তিনিও ওজু করে মসজিদের ভিতর প্রবেশ করেন কিন্তু অন্যরা সুন্নতের নামাজ পড়া শুরু করলেও তিনি তখন শারিরীক দূর্বলতা অনুভব করায় ইমাম সাহেবকে বলে যান মোয়াজ্জিনের কাজ তিনি যেন কাউকে দিয়ে করিয়ে নেন। প্রসংগত মোয়াজ্জিনের অনুপস্থিতিতে মতন চাচা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন । ইমাম নামাজ শেষে নিজ কক্ষে ফেরে দেখেন সুবোধ বালকের মত শুয়ে আছেন সহজ সরল এই মানুষটি। তখন ইমাম সাহেব কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে অন্য মুসল্লিদের ডেকে আনলে অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পর দেখা যায় তিনি তার স্রষ্টার ডাকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ।
বিশ্বনাথে কারিকোনার মতছির আলী মতন মিয়া এলাকার সবার কাছে মতন চাচা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি । যুবক বয়সে দীর্ঘদিন তিনি বিশ্বনাথ – জগন্নাথপুর রোডে বাসের কন্ট্রাকটর ছিলেন । কিন্তু কখনত্ত চালক হওয়ার চিন্তা করেননি । সে কারণে দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য মানুষের সাথে তার পরিচয় ছিল। মতন চাচার লেখাপড়ার জ্ঞান তেমন না থাকলেও একজন সচেতন মানুষের মত দেশের অনেক কিছু ছিল তার নখদর্পনে । আর দীর্ঘদিন ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের একজন অন্ধ সমর্থক । যে কারণে হাঠে কিংবা বাজারে এরশাদের পক্ষে একাই একাধিক ব্যক্তির সাথে তর্ক জুড়ে দিতেন ছোট্ট গঠনের অধিকারী সহজ সরল এই মানুষটি । শেষ বয়সে এসে কারিকোনা বায়তুল মামুর জামে মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও মসজিদের অনেক কাজ বিশেষ করে একজন অতন্দ্র প্রহরীর মত স্বেচ্ছায় দিনের পর দিন তিনি সকল কাজ করে গেছেন বিনা বেতনে অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে । যার কারণে তিনি মাত্র কয়েক বছরে গ্রামের সবার কাছে হয়ে গিয়েছিলেন আর অতি আপনজন।


