সিলেট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই। কে হচ্ছেন বিশ্বনাথ ওসমানী নগরের এমপি?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ইং, ২:৩৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৬৭ বার পঠিত
জামাল মিয়া, বিশ্বনাথ :: জমে উঠেছে সিলেট-২ আসনের ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে মূল আলোচনায় রয়েছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী (নৌকা) জাপার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী (লাঙ্গল) ও বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান (ট্রাক) এছাড়া ভোটের মাঠে আরো রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ )
বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলার মোট ভোটার হচ্ছেন ৩,৪৪,৭৫৭ জন, পুরুষ ভোটার হচ্ছেন ১,৭৬,১৫৬ জন, মহিলা ভোটার হচ্ছেন ১,৬৬, ৮০১ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাকি মাত্র ৫ দিন। প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রসার-প্রচারণা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। সেই সময়ের বিএনপির প্রার্থী ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শফিক চৌধুরী। দীর্ঘ দুই ট্রাম পর এবার নৌকার দলীয় প্রার্থী পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীরা উচ্ছাস ও উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে সিলেট-২ আসন নিজেদের দখলে নিতে চায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী।
অন্যদিকে জাতীয় পার্ট্টি প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন ও ওসমানীগর উপজেলাকে গঠন করে এলাকার মানুষের মন জয় করতে পেরে ও কর্মী সমর্থক তৈরী করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিলো জাতীয় পার্টি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী জামানত হারালেও এবার দলের কর্মী বাহিনীকে নিয়ে শক্ত অবস্তান নিয়েছেন। তার আমলে উন্নয়নের কর্মকান্ডকে কাজে লাগিয়ে আবারো সিলেট-২ আসনে দখলে নিতে চান জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া।
বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান তিনি এ পর্যন্ত ১৯৯১ সাল থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও সফল হতে পারেননি। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। এবারের নির্বাচনে জনগন মুহিবুর রহমান বেচে নেবে এমনটাই আশা করছেন তিনি।
কারন বিগত ২০২২ সালের পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফারুক আহমেদ হারিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তাই এবারো তাই ভোটের মাঠে তিনি এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে মুহিবুর রহমান প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সিলেট-২ আসনে উত্তাপ, উচ্ছাস ও উদ্দীপনা নেতা কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে। ভার্চুয়ালের মাধ্যম ভোটারদের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে তার বিষয়টি। তার সমর্থকরা নমিনেশন দাখিলের পর থেকেই শুরু করে দিয়েছেন প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় অনেকের মন্তব্য এবার জমে উঠেছে সিলেট-২ আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
বিশ্বনাথ বাজারের বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম বলেন, প্রথম খালি নৌকার মাত হুনছি এখন হুনাজার ট্রাকে আর লাঙ্গলের মাত। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে কে হবেন সংসদ সদস্য।
বর্তমান সংসদ সদস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোসহীন বক্তব্য দিয়ে আসছেন মোকাব্বির খান, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের উন্নয়নের কর্মকান্ড ও বিএনপিকে কাজে লাগিয়ে আবারো সিলেট-২ আসন দখলে নিতে চান গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান।
এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী আবদুর রব মল্লিক (সোনালি আঁশ), নমিনেশন দাখিলের পর থেকেই নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও মিছিল-মিটিং, প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। সোনালি আঁশ মার্কায় ভোট দিয়ে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরবাসী আমাকে বিজয় করবে বলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি আশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মো. জহির (ডাব), এনপিপি প্রার্থী মনোয়ার হোসাইন (আম) প্রচার-প্রচারনা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রতীকের প্রার্থী মুহিবুর রহমান বলেন, ‘ভোটের মাঠে খালি কয় ট্রাক। নৌকা কানা হয়ে গেছে, মানুষে বলে নৌকার মাঝি ভালো না। বাকি দু’জন বিনাভোটে এমপি। এরা সবে মিলে পৌরসভার নির্বাচনে চেষ্টা করেছেন। আমার বিজয় টেখাতে পারেননি। কাজে আমি এদের কাউকে হিসেবে নিচ্ছি না। এরা চোরাই পথে মামলা করে আমাকে পরাজিত করতে চাচ্ছে। আমি সব মোকাবেলা করতেছি। ৭ তারিখ মানুষ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দিবে।’
নৌকার প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন ছাড়াও তো সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম আছি। রাজনৈতিক জোটের কারণে গত দুটি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম না। মানুষ তো আমাকে ভোটে প্রত্যাখ্যান করেনি। এবার প্রার্থী হওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত। ১০ বছর তারা কাঙ্খিত উন্নয়নও পায়নি। তাই এবার বিপুল ভোটে নৌকাকে বিজয়ী করবে নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে। সাবেক-বর্তমান এমপি দু’জন, একজন মেয়রও আছেন প্রার্থী। উনার সব নির্বাচনেই খেলতে হয়। এগুলো কোনো সমস্যা না। আমরা সুস্থ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী।’


