বিশ্বনাথে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত, দিনভর ছিল পুলিশ মোতায়েন
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ইং, ১০:৫১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির দুই বলয়ের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় আজ শুক্রবার এলাকার পরিবেশ শান্ত ছিল। তারপরও উপজেলাবাসীর মধ্যে দিনভর আতংকে কেটেছে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা ‘তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবির’ বলয়ের মধ্যে সংগঠিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার জের ধরে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে দিনভর পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছিল। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে পৌর শহরের গূরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের অবস্থানের পাশাপাশি টহল টিমের নজরদারীও ছিলো লক্ষণীয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় কোন প্রকারের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় আতংক এখনও কাটেনি। অনেকের মধ্যে এখন আতংক বিরাজ করছে। ফের যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্রে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা।
স্ট্যাটাসে তিনি বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরবাসীকে সালাম জানিয়ে উল্লেখ করেছেন,“বিশ্বনাথে গতরাতে (বৃহস্পতিবার) যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা হয়েছে, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সবাইকে ধৈয্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অনুরোধ করছি। ষড়যন্ত্রকারীদের পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। সকল প্রকার সংঘর্ষ এড়িয়ে নিজেদের কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছি। ধানের শীষ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা ঘরে ঘওে পৌঁছে দেবার যে দায়িত্ব আপনাদের দিয়েছি সেটা নিষ্ঠার সাথে পালন করুন। কথায় বলে ‘যে সয়, সে রয়’।”
অন্যদিকে গণমাধ্যমে প্রেরিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া স্বাক্ষরিত এক যৌ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটিকে সাধারণ জনতার উপর হুমায়ুন কবির বলয়ের অর্তকিত হামলা উল্লেখ করে এঘটনায় ‘উপজেলা ও পৌর’ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করা হয়েছে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির আওতায় বিশ্বনাথ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের লিফলেট বিতরণ সম্পন্ন হয়। একই দিন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চড়চন্ডি গ্রামের একটি বাড়িতে বহিস্কৃতদের নিয়ে হুমায়ুন কবির একটি সভা করেন। সভা শেষে বিশ্বনাথ সদরে আসলে তার (হুমায়ুন) সঙ্গে থাকা বিএনপির বহিস্কৃত সুহেল চৌধুরী’সহ সিলেট ও ছাতক থেকে আনা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা বাসিয়া ব্রীজে গাড়ি থেকে নেমেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ব্রীজে থাকা সাধারণ জনতার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাধারন জনতার ওপর এ ন্যাক্কারজনক হামলা পূর্ব পরিকল্পিত এবং শান্ত বিশ্বনাথকে উত্তপ্ত করার ব্যর্থ প্রয়াস। আর নিরীহ জনতার ওপর হামলা চলাকালে দূরে অবস্থান করা যুবদল, ছাত্রদল নেতারা এগিয়ে আসলে সুহেল চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ সাধারণ জনতার ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যতায় বিএনপি বিশ্বনাথবাসীকে সাথে নিয়ে এ মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে। আর উদ্ভট এ পরিস্থিতিতে বিশ্বনাথবাসী ও ইলিয়াস প্রেমীদের ধৈর্য্য এবং শান্ত থাকার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
এঘটনার ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বলয়ের শীর্ষ নেতা বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দু’জনই (হুমায়ুন-লুনা) দলের পরীক্ষিত নেতা। তবে দলীয় ইঙ্গিত হুমায়ুন কবিরের দিকেই যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হুমায়ুনকে নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করি। কিন্তু লুনার অনুসারীরা সেই কর্মসূচিতে বাঁধা সৃষ্টির জন্য বিকল্প কর্মসূচি দিয়ে আমাদের (হুমায়ুন) নেতার গাড়িবহর বিভিন্ন স্থানে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সকল চেষ্ঠা ব্যর্থ হয়। আমরা তখনও কোনো প্রতিবাদ করিনি। পরে রাতে দৌলতপুরে সভা শেষে ফেরার পথে লুনার অনুসারীরা গুন্ডাপান্ডা-সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ ও আ.লীগের কর্মীদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটি কোনো সুস্থ রাজনীতি নয়। দলের ভেতরে এভাবে একজন মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া রাজনীতির পরিপন্থী। আমাদের বিশ্বাস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুমায়ুন কবির দলীয় মনোনয়ন পাবেন।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক রয়েছে। দু’পক্ষকেই শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।


