বিশ্বনাথে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারীসহ আহত অর্ধশতাধিক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জুলাই ২০১৫ ইং, ২:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৬৫৪ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা::বিশ্বনাথে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে নারীসহ অনন্ত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিরপুর নামক স্থানে রামপাশা গ্রামবাসী ও কাদিপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘন্টাব্যাপি এ সংর্ঘষ চলে। এতে জনপ্রতিনিধি,শালিসি ব্যক্তি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতরা হলেন রামপাশা গ্রামের রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার খান (৪৮), কাওছার আহমদ তুলাই (৪০), ফয়জুন নূর (৪৫), তোরন মিয়া (৩৫), ইসলাম উদ্দিন (৩০), হাফছা বেগম (২৭), আফিয়া বেগম (৪০), আবদুল্লাহ (৪২), কলিম উল্লা (৪৫), হাফিজুর রহমান (২৫), আতিকুর রহমান (২২), ছামির আলী (২৪), তাজুল ইসলাম (২৮), নজরুল ইসলাম স্বপন (২৮), নূরুল ইসলাম (২১), হারিছ আলী (৩৮), মনসাদ আলী (৩০), কাদিরপুর গ্রামের দিলারা বেগম (৪০), সুফিয়া বেগম (৬০), শানুর আলী (৪৫), আবদুস সত্তার (৫০), মাহবুব আলম (২০), মুছা (১৭), গুলিবৃদ্ধ আবদুল হক (৪০), সাহেদ (২০), সফি আলম (২০), ইরন মিয়া (৩৫), ইন্তাজ আলী (৫৫), মোহাম্মদ (৪০), আঙ্গুর মিয়া (৫০), লিয়াতক (৩৫), মুহিব (১৮), ছইল মিয়া (২৭), আবুল কালাম (২৫), আশরাফ (১৮), আখলুছ আলী (৬০), তৈমছু আলী (৫৫), বশির (৩৫), নুরজ্জামান (২৪), ইমন (১০), আবুল কালাম (৪৪), শালিসি ব্যক্তি গয়াছ মিয়া (৪৮), লেখনদর আলী (৬০), হরমুজ আলী (৭০), আবদুল মতিন (৪৫)। গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। খবর পেয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এসময পুলিশ তিন রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানাগেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রামপাশা গ্রামের তুরন মিয়া বোন অন্তসত্ত্বা হাফছা বেগমসহ দুই নারী কাদিরপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসনে। এসময় কাদিরপুর গ্রামে শানুর আলীর সঙ্গে হাসপাতালের ভিতরে ওষুধ নিয়ে তাদের ঝগড়া শুরু হয়। এমন খবর মর্হুর্তে মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রামবাসী মাইকে ঘোষনা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘন্টাব্যাপি সংর্ঘষে অনন্ত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। হাসপাতালের পাশে কাদিপুর গ্রামের শানুর আলীর র্ফামেসী রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
এব্যাপারে রামপাশা গ্রামের তোরণ মিয়া বলেন, আমার অন্তসত্ত্বা বোন হাফসা বেগমসহ দুই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। এসময় কাদিপুর গ্রামের শানুর আলী তাদের ওপর হামলা করে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী হাসপাতালে ছুটে যাই। এতে কাদিপুর গ্রামবাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। শানুর আলী দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পাশে সরকারি জায়গায় দখল করে অবৈধ ফার্মেসীর দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছে। সরকারি ওষুধ তার দোকানে পাওয়াও যায় বলে তিনি জানান।
কাদিরপুর গ্রামের শানুর আলী বলেন, হঠাৎ করে রামপাশা গ্রামাবাসী আমার দোকান ঘরে হামলা চালিয়ে লুঠপাঠ শুরু করে। এসময় বাধা দিলে তাদের সঙ্গে সংর্ঘষ বাধে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার খান পুলিশের কাছ থেকে বন্ধুক নিয়ে আমাদের ওপর গুলি নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় তিনি জানান।
রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার খান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দুই নারী ওপর হামলার ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এসময় তিনিও আহত হন বলে দাবি করেন। তার নেতৃৃত্বে হামলার বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
বিশ্বনাথ থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, সংর্ঘষে চলাকালে পুলিশ তিন রাউন্ড কার্তুজ ব্যহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।


