জগন্নাথপুরে বন্যায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জুলাই ২০১৫ ইং, ৯:২৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৪৪ বার পঠিত
ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৪০ টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অনাকাঙ্খিত দুর্ভোগে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। নৌকা দিয়ে কোন রকমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন পানি বন্দি লোকজন। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানি বন্দি লোকজন। এসব পানি বন্দি লোকজনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন সমাজের সর্বস্তরের জনতা।
জানাগেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ও উপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিন ধরে নদীর পানি চরম আকার ধারন করেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীরপাড়ে অবস্থিত প্রায় ৪০ টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। সেই সাথে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ ও হাটবাজার। উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের স্বাধীন বাজারসহ প্রায় ২৫ টি, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজার, রৌয়াইল বাজারসহ ১০টি ও আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেছি বাজারসহ ৫ টি গ্রাম তলিয়ে যায়। সেই সাথে তলিয়ে গেছে ৩টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সকল রাস্তাঘাট। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পাইলগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন জানান, হঠাৎ বন্যার পানিতে গত দুই দিনে ইউনিয়নের পাইলগাঁও, হাড়গ্রাম, জালালপুর, সৈয়দপুর, আলাগদি, শ্যামারগাঁও, গোতগাঁও, রসুলপুর, মকবুলাবাদ, বাগময়না তাজপুর, বুরমপুর, গাজীরকূল, উলুকান্দি, গাইনাকান্দি, বুদরপুর, রমাপতিপুরসহ প্রায় ২০/২৫ টি গ্রাম ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এতে অনাকঙ্খিত দুর্ভোগে পড়েছেন ইউনিয়নবাসী।
রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজলুল হক জানান, হঠাৎ কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রোববার ও সোমবার পর্যন্ত মাত্র দুই দিনে নদীপাড়ের গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। আমার ইউনিয়নের রাণীনগর, বাগময়না, রৌয়াইল, আটহাল, নোয়াগাঁওসহ প্রায় ৮/১০ টি গ্রামের লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে রাণীগঞ্জ বাজার ও রৌয়াইল বাজার তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিত গ্রামগুলোর লোকজন ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।
আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান জানান, বন্যায় আমার ইউনিয়নের বড়ফেছি বাজারসহ ৫/৬ টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে।
যোগাযোগ করা হলে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকমল হোসেন বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে সামান্য পানি বাড়লেও তেমন ক্ষতি হয়নি। তবুও খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।
এদিকে-সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বন্যা কবলিত রাণীনগর গ্রামের প্রায় ১৫০ টি পরিবারে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমাজ সেবক মাওলানা নিজাম উদ্দিন জালালী, রাণীগঞ্জ দর্পন সম্পাদক আবুল কাশেম আকমল, রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মিঠু, সমাজ সেবক শাহী আহমদ ফুলাদ ও জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাব এর সাহিত্য সম্পাদক মিছলুর রহমানের যৌথ উদ্যোগে নৌকাযোগে বন্যা কবলিত গ্রামের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে চিড়া, গুড়, মোমবাতি, ম্যাচসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় তাদের দেয়া ত্রান সামগ্রী পেয়ে বন্যা কবলিত গ্রামের লোকজনের মুখে হাসি ফুটে উঠে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি।


