ক্ষমতার দন্ধে বিশ্বনাথে এহিয়া-শফিক মুখোমুখি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২০৬৬ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু :: শক্তি, ক্ষমতা আর ক্ষমতাশীন দল। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ছিলেন সিলেট ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সবই আছে। কিন্তু এমপি পদ নেই। তারপরও চালিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতার দাপট। তাঁর নাম শফিকুর রহমান চৌধুরী। ক্ষমতায় ছিলেন। নির্বাচনী আসনের উন্নয়ন করেছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। এখন ক্ষমতা নেই। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। তিনি জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর নির্বাচনী আসনে উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। সেই উন্নয়নে বাধাঁ দিচ্ছেন ক্ষমতাবান শফিকুর রহমান চৌধুরী। এমন অভিযোগ সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার। উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করতে পারছেন না। এর পূর্বেই উদ্বোধন করেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। এনিয়ে দুই সাবেক ও বতর্মান সংসদ সদস্যের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত:নেই। একজন আরেক জনকে মেনে নিতে পারছেন না। নিজের উন্নয়নকে শফিকুর রহমান চৌধুরী ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী। অপরদিকে শফিকুর রহমান চৌধুরী তাঁর উন্নয়ন তিনি উদ্বোধন করছেন বলে দাবি করেন।
গত ৩ আগস্ট কাশিমপুর গ্রামে বিদ্যুৎ এর উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। ৫ আগস্ট উদ্বোধন করার কথা ছিল সাংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরীর। তড়িঘড়ি করে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বিদ্যুৎতের উদ্বোধন করেন। ৫ আগস্ট ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার সম্মানে কাশিমপুর এলাকাবাসির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বিদ্যুৎ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। ওই দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার মঞ্চ ভাংচুর করে। এনিয়ে দুই সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া ও তার অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চলেন শফিক চৌধুরী : সাংবিধানিকভাবে কোন সাংসদ পুলিশ প্রটোকল পাওয়ার বিধান নেই। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে এ ক্ষেত্রে একজন গানম্যান বা নিরাপত্তা রক্ষী পেতে পারেন। আর বিশেষ ক্ষেত্রে একজন সাংসদকে পুলিশ প্রটোকল দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেবে সাংসদকে পুলিশ প্রটোকল দেয়া যাবে কিনা। বিধান এরকম থাকলেও সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালগঞ্জ) আসনে চলছে উল্টোরথ! এখানে বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এলাকায় আসলে পুলিশ প্রটোকল নেন না, কিন্তু সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এলাকায় আসলে সব সময়ই পুলিশ প্রটোকল নিচ্ছেন! এ নিয়ে বিশ্বনাথ জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে মহাজোটের সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর বদলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে ইয়াহইয়া বিজয়ী হন। নিয়মানুসারে শপথও নেন। এরপর থেকে তিনি বিশ্বনাথে আসলেও কোনোও পুলিশ প্রটোকল নিচ্ছেন না। অথচ অতীতে যে বা যারাই সিলেট-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা সবাই-ই এলাকায় পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করেছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম বর্তমান সাংসদ ইয়াহইয়া। গত ৫ ও ৬ আগষ্ট বিশ্বনাথে পুলিশ প্রটোকলে আসেন।
অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাবেক সাংসদ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী দলের কেন্দ্রের নির্দেশের কারণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারেননি। ফলে পুনরায় সাংসদ হওয়া হয়নি তাঁর। কিন্তু এরপরও তিনি যখন এলাকায় আসেন, তখন সব সময়ই পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করেন। সাধারণ মানুষ বলছেন, আইনানুসারে যে কেউ পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতেই পারে। কিন্তু যেখানে বর্তমান সাংসদই পুলিশ প্রটোকল নিচ্ছেন না, সেখানে সাবেক সাংসদ হয়েও শফিক চৌধুরীর প্রটোকল নেয়াটা দৃষ্টিকটু।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, যে কোনো নাগরিক নিরাপত্তা চাইলে রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। শফিকুর রহমান জনপ্রিয় নেতা। তিনি পুলিশ প্রটোকল পেতেই পারেন। আর ইয়াহইয়া প্রটোকল নেন না, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ৬ আগস্ট খাজাঞ্চির এক অনুষ্ঠানে এহিয়া বলেছেন, জাতীয়পার্টি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি বুঝেন না। তিনি সর্বদলীয় তাই পুলিশ প্রটোকলের দরকার নেই। তিনি বলেন, শফিকুর রহমান চৌধুরীর উন্নয়ন (আমতৈলসহ দুটি জায়গায়) ইয়াহইয়া চৌধুরী হাইজ্যাক করে উদ্বোধন করেছেন। শফিক চৌধুরী একজন ভাল মানুষ। ক্ষমতা দেখিয়ে চলাফেরা করেননি। তিনি জনপ্রিয় ও জননেতা।
সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, সরকারের জোরে অবৈধভাবে পুলিশকে ব্যবহার করছেন শফিক চৌধুরী। নিজে এতো উন্নয়ন করলেন কিন্তু এখনও নিজ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। নেই রাস্তা। তিনি বলেন, আমার উন্নয়ন ছিনতাই করে নিয়মনীতির তোয়াক্ষা না করে গায়ের জোরে তিনি (শফিক চৌধুরী) চলেন। অতীতেও বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ আসনে জনপ্রতিনিরা ছিলেন। জনগণ শফিকুর রহমান চৌধুরীকে ভাল জানে। পুলিশ প্রটোকল প্রসঙ্গে ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, আমার হামলা-মামলার ভয় নাই। যার কারণে পুলিশ প্রটোকলের কোন দরকার নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর সংসদ নির্বাচনের পর এ নির্বাচনী আসনে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। পর্যায়ক্রমে আরো উন্নয়ন হবে বলে তিনি জানান।


