বিশ্বনাথে বাস চালকরা ফুরফুরে মেজাজে,অটোরিকশা চালকরা বেকায়তায়
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০১৫ ইং, ১২:০৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৩৩ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথে বাস চালকরা ফুরফুরে মেজাজে ও অটোরিকশা চালকরা রয়েছেন বেকায়তায়। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষনা পরপরই বাস চালকরা খুশি হলেও অটোরিকশা চালকরা রয়েছেন দুঃচিন্তায়। মহাসড়কে অটোরিকশা শূণ্য থাকায় বাস চালকরা রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘদিন পর আবার বাস গাড়ির যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাস চালক ও মালিকরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বলে জানাগেছে। প্রবাসী এলাকায় হিসেবে পরিচত বিশ্বনাথ। এখানে অনেকের চার-পাঁচটি করে অটোরিকশা রয়েছে। কিন্তু অটোরিকশা মহাসড়কে বন্ধ করে দেয়া অনেক অটোরিকশা মালিকরা গাড়ি বিক্রি করে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন।
জানাযায়, বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রায় এক হাজার অটোরিকশা রয়েছে। প্রতিদিন মহাসড়কে তাদের সরব চলাচলা দেখা যেত। কিন্তু সম্প্রতি সরকার সারা দেশে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষনা করে। অটোরিকশা বন্ধ ঘোষনার পরপরই অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা ফুঁসে উঠেন। সিলেট অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা ধর্মঘটের ডাক দেয়। কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় শ্রমিক নেতারা। গত সোমবার বিশ্বনাথ উপজেলার আটটি অটোরিকশা শাখার শ্রমিকরা উপজেলায় অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরদিন স্থানীয় আওয়া মীলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে বিশ্বনাথ উপজেলার কোনো অটোরিকশা গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যায়নি। অটোরিকশা গাড়ি মার্কেটে আসার পর থেকে উপজেলার বাস মালিকদের ব্যবসায় ধস নেমে আসে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাস গাড়ির বিক্রি করে দিয়ে অটোরিকশা গাড়ি ক্রয় করেন। কিন্তু সম্প্রতি অটোরিকশা গাড়ি মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফের বাস গাড়ির ব্যবসা চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। এলাকার অনেকেই আবার বাস গাড়ি ক্রয় করতে শুরু করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়। অটোরিকশা গাড়ি মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাস গাড়ি দিয়ে সিলেট শহরে যেত হচ্ছে। ফলে বাস গাড়িতে বসে সিলেট শহরে যাওয়া মুসকিল হয়ে পড়েছে। বাসে সিট না পেয়ে অনেক যাত্রীকে দাড়িয়ে সিলেট শহরে যেতে দেখা যায়। বিশ্বনাথ থেকে রশিদপুর পর্যন্ত অটোরিকশা গাড়ির চলাচল করলেও মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলা একেবারে বন্ধ রয়েছে। ফলে দিনদিন অটোরিকশা চালকদের দুঃচিন্তা বেড়েই চলছে।
এব্যাপারে যাত্রী মনির মিয়া বলেন, মহাসড়কে অটোরিকশা গাড়ি বন্ধ থাকায় বাস গাড়ি দিয়ে সিলেট শহরে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর বাস গাড়িতে চলাচল করছি। তবে বাসে সিট পাওয়া অনেক মুসকিল হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
বাস চালক মফিজ মিয়া বলেন, মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় বাস গাড়িতে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাস গাড়ির ব্যবসা ফের ঘুরে দাড়িয়েছে বলে তিনি জানান।
অটোরিকশা চালক তজম্মুল আলী বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু এভাবে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে কখনও কল্পনা করিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটি অটোরিকশা গাড়ি ক্রয় করেন। ওই গাড়ি চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বিপাকে রয়েছেন বলে জানান।


