বিশ্বনাথে বাসিয়া নদীতে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৯:১৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০০২ বার পঠিত
অসিত রঞ্জন দেব ও জামাল মিয়া :: সিলেটের বিশ্বনাথে দোকানপাঠ, বাসা-বাড়ি ও সড়কের ফেলা ময়লা-আবর্জনায় জমাট হচ্ছে এককালের খড়স্রোতা নদী বাসিয়া। ফলে নদী ভরাটের পাশাপাশি এসব ময়লা-আবর্জনা পচেঁ হচ্ছে দুষিত পানি। নদীর ওই দুষিত পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে অসুস্থ হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন কলোনীতে বসবাসকারী গরীব জনগোষ্ঠির সদস্যরা। নদীর দুষিত পানিতে থাকা মাছও আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিধ রোগব্যধিতে। আবার নদীতে শিকার করা মাছ বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। বিষাক্ত পানির মাছ খাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন উপজেলাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার নামক স্থান থেকে ‘সুরমা নদী’ থেকে বাসিয়া নদীর উৎপত্তি হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার খাইকা নামক স্থানে ‘কুশিয়ারা নদীতে’ গিয়ে শেষ হয়েছে। বাসিয়া নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২ কিলোমিটার ও প্রস্থ প্রায় ৩০ মিটার।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে উপজেলাকে দ্বিখন্ডিত করেছে বাসিয়া নদী। আর ওই নদীর চর ভরাট করে দখল করার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভূমিখোকো নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে বিশিস্ট জনের। এছাড়া অতিরিক্ত পলিমাটি ও দখলদারদের কারণে বাসিয়ার দুই মুখ পূর্বের চেয়ে অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথে পৌরসভা না থাকার ফলে স্বাধীনতার এতো দিনেও নির্ধারিত হয়নি ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিস্ট কোন স্থান। তাই যত্রতত্র ফেলা না ফেলে, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বাসিয়া নদীকেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার অঘোষিত স্থান হিসেবে ঠিক করেছেন দোকানপাঠের মালিকগণ ও বিভিন্ন বাসা-বাড়ির বাসিন্দারা।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বণিক কল্যাণ সমিতির রাখা পরিস্কার পরিচ্ছন শ্রমিকরাও প্রতিদিন বাজারগুলো পরিস্কার করে সকল ময়লা-আবর্জনাগুলো ফেলে থাকেন বাসিয়া নদীতে।
বিশ্বনাথ পুরাণ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মনির মিয়া বলেন, নির্দিস্ট কোন স্থান না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই আমাদেরকে দোকানপাঠ ও বাজারের ময়লা-আবর্জনাগুলোর নদীতেই ফেলতে হচ্ছে। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করারও চেষ্ঠা করছি।
বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মঈনুর রহমান বলেন, যেহেতু বিশ্বনাথে পৌরসভা নেই। সেহেতু ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি নির্দিস্ট স্থান নির্ধারণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসকেই উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।
সম্প্রতি উপজেলার সুশীল সমাজের সাথে অনুষ্ঠিত উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায়ও বাসিয়া নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও অবৈধ দখলের কবল থেকে রক্ষা করার উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানানো হয়।
উপজেলার গরুহাটা এলাকার কলোনী বাসিন্দা সুজন মিয়া, আবুল খয়ের, খালেদা বেগম, আয়েশা খাতুন বলেন, গরীবরা কিসে ভালো থাকবে তা দেখবে। মাস শেষে মালিক আসে ভাড়া নিতে, ভাড়া নিয়েই তাঁর কাজ শেষ। বিশুদ্ধ পানি আর স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরী করার সময় উনার কি আছে। ফলে বার মাস আমাদেরকে নদীর পানির উপরই নির্ভরশীল থাকতে হয়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলার দেখা বাসিয়া আর এখনকার বাসিয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। একসময় যে নদী দিয়ে লঞ্চ-স্টিমার-পালতোলা নৌকা চলত ভরাট ও দখলের ফলে বর্তমানে ওই নদী দিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকাও চলতে দেখা যায়না বললেই চলে।
সুশীল সমাজের অভিযোগ, নদীর চর দখল করার জন্য ভূমিখোকোরা প্রথমে বাঁশ দিয়ে আড় তৈরী করে প্রথমে সেখানে ময়লা-আবর্জনা, ছাই ফেলেন ও পরবর্তিতে বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে পানির সাথে থাকা পলি আটকিয়ে নিজেদের সীমানা বৃদ্ধি করেন। একপর্যায়ে তাতে নির্মাণ করা হয় বিশাল দোকানপাঠ ও বাসা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি দাপে বাসিয়া নদী পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হবে। শীঘ্রই একটি অংশের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দোকান বিট স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়না। এগুলো একসনা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, জনপ্রতিনিধি ও বিশিস্টজনকে নিয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একটি নির্দিস্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে শীঘ্রই। অবৈধভাবে কেউ যাতে নদীর চর দখল করতে না পারেন সেজন্য প্রশাসন পক্ষ থেকে সর্বদা গ্রহন করা হচ্ছে সকল প্রকার পদক্ষেপ।
স্থানীয় সাংসদ ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, বাসিয়া নদী পুনঃখননের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। এরমধ্যে শীঘ্রই প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অংশের পুনঃখনন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


